বিয়ে, উৎসব কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠানে সোনার গয়না ছাড়া ভারতীয় সংস্কৃতি যেন অসম্পূর্ণ। ভারী হার, বালা, আংটি কিংবা চেন— অনেকের কাছেই এগুলি শুধু অলঙ্কার নয়, সামাজিক সম্মান ও আর্থিক সামর্থ্যের প্রতীক। কিন্তু পৃথিবীতে এমনও একটি দেশ রয়েছে, যেখানে প্রকাশ্যে বেশি সোনা পরে ঘোরাকে ভাল চোখে দেখা হয় না। বরং অনেক সময় তা অহঙ্কারের পরিচয় বলেই মনে করা হয়।

কোন দেশে সোনা প্রদর্শন অপছন্দ করা হয়?
এই দেশটি হল Sweden। ইউরোপের অন্যতম ধনী ও উন্নত দেশ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে মানুষ সাধারণ জীবনযাপনকেই বেশি গুরুত্ব দেন।বিশেষ করে রাজধানী Stockholm-এর রাস্তায় খুব কম মানুষকেই ভারী সোনার গয়না পরে দেখা যায়। কারণ স্থানীয় সংস্কৃতিতে অতিরিক্ত ধনসম্পদ প্রদর্শনকে অশোভন বলে ধরা হয়।
শুধু সুইডেন নয়, গোটা স্ক্যান্ডিনেভিয়ার একই ভাবনা
Norway, Denmark এবং Sweden— এই স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলিতে সাধারণ জীবনযাপনকে অত্যন্ত মর্যাদা দেওয়া হয়।সেখানে দামি গয়না, বিলাসবহুল পোশাক বা অতিরিক্ত আড়ম্বর অনেক সময় নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। তাঁদের মতে, সমাজে নিজের সম্পদ দেখিয়ে অন্যদের থেকে নিজেকে বড় প্রমাণ করা উচিত নয়।
‘জান্তে আইন’ কী?
এই সামাজিক মানসিকতার পিছনে রয়েছে ‘জান্তে আইন’ বা “Law of Jante” নামে পরিচিত এক দর্শন।এই ধারণাকে জনপ্রিয় করেছিলেন Aksel Sandemose। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস A Fugitive Crosses His Tracks-এ ‘জান্তে’ নামের এক কাল্পনিক শহরের মানুষের জন্য কিছু সামাজিক নীতি তুলে ধরা হয়েছিল।
এই দর্শনের মূল কথা—
নিজেকে অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভাবা যাবে না
অহঙ্কার প্রদর্শন করা অনুচিত
সমাজে সবাই সমান
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ভাবনাই স্ক্যান্ডিনেভিয়ান সংস্কৃতির বড় অংশ হয়ে ওঠে।

কেন সোনা পরাকে অশোভন মনে করা হয়?
স্থানীয়দের মতে, অতিরিক্ত সোনা বা হীরের গয়না পরে ঘোরা সমাজে বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি করতে পারে।অনেকেই মনে করেন, এতে অন্যদের ছোট দেখানোর প্রবণতা প্রকাশ পায়। তাই প্রকাশ্যে ভারী সোনা পরে চলাফেরা করলে তা অনেক সময় অহঙ্কার বা আত্মপ্রদর্শনের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
ধনীরাও সাধারণ জীবনযাপন করেন
এই সংস্কৃতির প্রভাব এতটাই গভীর যে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ধনী ব্যবসায়ী ও কোটিপতিরাও প্রায়শই সাধারণ গাড়ি ব্যবহার করেন এবং অত্যন্ত সাদামাটা পোশাক পরেন।সেখানে বিলাসিতা দেখানোর চেয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সামাজিক সমতা বেশি গুরুত্ব পায়।

ভারতের সঙ্গে বড় পার্থক্য
ভারতে সোনা শুধু অলঙ্কার নয়, বিনিয়োগ ও পারিবারিক নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। বিয়ে বা উৎসবে সোনা পরা সামাজিক ঐতিহ্যের অংশ।অন্যদিকে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান সংস্কৃতিতে সম্পদ প্রকাশ্যে প্রদর্শনের বদলে সরল জীবনযাপনকেই বেশি মর্যাদা দেওয়া হয়। এই সাংস্কৃতিক পার্থক্যই দুই সমাজকে আলাদা করে তুলে ধরে।

ভারত-সহ বিশ্বের বহু দেশে সোনার গয়না ধনসম্পদ ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। কিন্তু ইউরোপের Sweden-এ অতিরিক্ত সোনা পরে প্রকাশ্যে ঘোরা অনেক ক্ষেত্রেই অপছন্দ করা হয়। এর পিছনে রয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান সমাজের বহু পুরনো সামাজিক দর্শন ‘জান্তে আইন’।










