বিশ্বকাপের মঞ্চে যখন গোলপার্থক্যই হয়ে উঠতে পারে ভাগ্য নির্ধারণের অন্যতম চাবিকাঠি, তখন টিউনিশিয়ার বিরুদ্ধে একেবারে ঝড় তুলল সুইডেন। আক্রমণাত্মক ফুটবল, দ্রুত গোল এবং দ্বিতীয়ার্ধে দাপুটে পারফরম্যান্সে প্রতিপক্ষকে কার্যত উড়িয়ে দিল স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। ৫-১ গোলের এই জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দিল না, বরং শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াইয়ে বড় সুবিধাও করে দিল সুইডেনকে।
ম্যাচের শুরুতেই বাজিমাত আয়ারির
ম্যাচ শুরুর পর থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় সুইডেনকে। তারই ফল মেলে সপ্তম মিনিটে। তরুণ মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারি দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। বিশ্বকাপের চলতি আসরে এটি অন্যতম দ্রুততম গোল হিসেবেও নজর কেড়েছে।শুরুতেই গোল পাওয়ায় আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় সুইডিশ ফুটবলারদের। তারা বলের দখল ধরে রেখে টিউনিশিয়ার রক্ষণভাগের উপর লাগাতার চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।
ইসাকের জোড়া আঘাতে ভেঙে পড়ে টিউনিশিয়া
প্রথমার্ধের ৩০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আলেকজান্ডার ইসাক। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে তিনি দলের আধিপত্য আরও স্পষ্ট করে দেন। যে টিউনিশিয়া বাছাইপর্বে শক্তিশালী রক্ষণভাগের জন্য প্রশংসিত হয়েছিল, তাদের প্রতিরোধ মাত্র আধঘণ্টার মধ্যেই ভেঙে দেয় সুইডেন।যদিও প্রথমার্ধের শেষদিকে রেকিকের গোলে টিউনিশিয়া ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করে, তবুও ম্যাচে ফেরার মতো ধারাবাহিকতা তারা দেখাতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে একতরফা সুইডেন
বিরতির পর আরও সংগঠিত ফুটবল খেলতে শুরু করে সুইডেন। রক্ষণ মজবুত করার পাশাপাশি আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয় তারা। এর ফল মেলে ৫৯ মিনিটে। ইসাক নিজের দ্বিতীয় গোল করে স্কোরলাইন ৩-১ করেন।এই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সুইডেনের হাতে চলে যায়। টিউনিশিয়া আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও সুইডিশ রক্ষণভাগ তাদের সুযোগই দেয়নি।
VAR নাটকের পর গোল, উত্তেজনা চরমে
ম্যাচের ৮৬ মিনিটে পরিবর্ত ফুটবলার সভানবার্গ বল জালে জড়ালেও প্রথমে অফসাইডের জন্য গোল বাতিল করা হয়। তবে VAR পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলায় ম্যাচ অফিসিয়ালরা।রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি প্রতিপক্ষ নয় বরং ইসাকের পায়ে লেগে সভানবার্গের কাছে পৌঁছেছিল। ফলে গোল বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং সুইডেন ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
শেষ মুহূর্তে আয়ারির ম্যাজিক
ম্যাচের সংযুক্ত সময়ে আবারও নিজের প্রতিভার ঝলক দেখান ইয়াসিন আয়ারি। দূরপাল্লার দুরন্ত শটে টিউনিশিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পঞ্চম গোলটি করেন তিনি।মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন পারফরম্যান্স ফুটবল বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। ভবিষ্যতের বড় তারকা হওয়ার ইঙ্গিতও দেখছেন অনেকেই।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ এফে দুরন্ত ছন্দে দেখা গেল সুইডেনকে। টিউনিশিয়ার বিরুদ্ধে ৫-১ গোলের বড় জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল ইউরোপের দলটি। মাত্র ১৯ বছর বয়সি ইয়াসিন আয়ারির জোড়া গোল ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। আলেকজান্ডার ইসাকও জোড়া গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা নেন।










