তাজমহলের বিভিন্ন অংশ থেকে পাথর খসে পড়া, দেওয়ালে ফাটল এবং রয়্যাল গেটের ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থাকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক ঝড়, প্রবল বৃষ্টি এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের মধ্যে স্মারকটির সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের দাবি, সাম্প্রতিক ঝড় ও বৃষ্টির সময় তাজমহল প্রাঙ্গণের কয়েকটি অংশ থেকে ছোট-বড় পাথর খসে পড়তে দেখা গেছে। ঘটনার পর স্মারকটির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আগ্রায় আবহাওয়ার ধারাবাহিক পরিবর্তনের প্রভাব ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলির ওপরও পড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের পরিবেশগত চাপ এবং আবহাওয়ার প্রভাব স্মারকের কাঠামোকে দুর্বল করে তুলতে পারে।
তাজমহলের প্রাক্তন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, আগে সংরক্ষণমূলক কাজ বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে করা হলেও বর্তমানে একাধিক কাজ ঠিকাদারদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে কাজের মান এবং নজরদারি দুটিই প্রভাবিত হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
তাঁরা আরও বলেন, ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগ বা Archaeological Survey of India-এর স্মারক সংরক্ষণে আরও গুরুত্ব সহকারে কাজ করা প্রয়োজন।
তাজমহলের দেওয়াল এবং মার্বেলের অংশে দেখা দেওয়া ফাটল নিয়েও বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, সময়মতো মেরামত এবং বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ না করা হলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে।
প্রতি বছর লক্ষাধিক দেশি-বিদেশি পর্যটক তাজমহল পরিদর্শন করেন। এই পরিস্থিতিকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটন—উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পর্যটকদের একাংশও স্মারকের কিছু অংশের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
স্থানীয় গাইডদের দাবি, গত কয়েক বছরে আবহাওয়ার প্রভাব এবং বাড়তে থাকা দূষণের প্রভাব স্মারকের ওপর স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। বৃষ্টির সময় জল জমে থাকা এবং আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
UNESCO-র বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত তাজমহল অতীতেও দূষণ, পোকামাকড় এবং পরিবেশগত ক্ষয়ের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনায় ছিল। সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টিজনিত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঐতিহাসিক স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ শুধুমাত্র বাহ্যিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। কাঠামোগত দৃঢ়তা, জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাও জরুরি।
আগ্রার স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সময়মতো উপযুক্ত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী বছরগুলিতে স্মারকটি আরও গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাঁরা সরকার এবং ASI-এর কাছে দ্রুত সংরক্ষণমূলক কাজ জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমেও তাজমহলের ফাটল এবং খসে পড়া পাথর সংক্রান্ত ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হয়েছে। বহু ব্যবহারকারী এটিকে দেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত গুরুতর বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন।
আগ্রা প্রশাসন এবং ASI-এর দল বর্তমানে পরিস্থিতি পরিদর্শন করছে। কর্মকর্তাদের বক্তব্য, যেসব অংশে ক্ষতির অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেখানে পরীক্ষা ও মেরামতির কাজ করা হবে।
তাজমহলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। ঐতিহাসিক এই স্মারককে সুরক্ষিত রাখতে উন্নত সংরক্ষণ এবং কঠোর নজরদারির দাবি জোরদার হয়েছে।










