শাল-শিমূল-মহুয়ার জঙ্গল পেরোলেই টলটলে জল! পুজোয় ভিড় এড়িয়ে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরে আসুন বাঁকুড়ার এই অফবিট ঠিকানায়

পুজোর ছুটিতে ভিড় এড়িয়ে ঘুরে আসুন বাঁকুড়ার তালবেড়িয়া জলাধারে। শাল-শিমূল-মহুয়ার জঙ্গল, পাহাড়ি পরিবেশ ও বিস্তীর্ণ জলরাশি নিয়ে জানুন এই অফবিট গন্তব্যের খুঁটিনাটি।

শহরের কোলাহল থেকে দূরে দু’দিন প্রকৃতির মধ্যে কাটানোর ইচ্ছে? চারপাশে শাল, শিমূল, মহুয়ার সবুজ, তার মাঝে বিশাল জলাধার আর জলের উপর রোদের ঝিকিমিকি—এমন পরিবেশের জন্য খুব দূরে যেতে হবে না। দক্ষিণ বাঁকুড়ার ঝিলিমিলি এলাকার রাইতারা গ্রামের কাছে রয়েছে তালবেড়িয়া জলাধার। পুজোর ভিড় এড়িয়ে পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয় মানুষকে নিয়ে ছোট্ট ট্রিপের জন্য এই অফবিট গন্তব্য নজরে রাখতে পারেন।

কোথায় রয়েছে তালবেড়িয়া জলাধার?

দক্ষিণ বাঁকুড়ার ঝাড়খণ্ড সীমান্ত লাগোয়া ঝিলিমিলি অঞ্চলের রাইতারা গ্রামের কাছে অবস্থিত তালবেড়িয়া জলাধার। বাঁকুড়া শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।গন্তব্যের পথে রাস্তার দু’পাশে চোখে পড়বে শাল, শিমূল ও মহুয়া গাছের ঘন সবুজ। জঙ্গলের পথ পেরিয়ে হঠাৎ সামনে খুলে যায় বিস্তীর্ণ জলরাশির দৃশ্য—যা এই জায়গার অন্যতম আকর্ষণ।

জল আর জঙ্গলের অপূর্ব মেলবন্ধন

তালবেড়িয়ার মূল আকর্ষণ কোনও বড় বিনোদন পার্ক বা কৃত্রিম ব্যবস্থা নয়। এখানকার সৌন্দর্য তৈরি হয়েছে প্রকৃতির নিজস্ব পরিবেশেই।একদিকে বিস্তীর্ণ জলাধার, অন্যদিকে সবুজে মোড়া পাহাড়ি জঙ্গল। পরিষ্কার দিনে জলের উপর সূর্যের আলো পড়লে তৈরি হয় ঝিকিমিকি দৃশ্য। নীল জল আর সবুজ জঙ্গলের এই বৈপরীত্য প্রকৃতিপ্রেমী ও ফটোগ্রাফি পছন্দ করেন এমন পর্যটকদেরও আকর্ষণ করতে পারে।

প্রিয়জনকে নিয়ে নিরিবিলি সময় কাটানোর সুযোগ

পুজোর ছুটিতে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে ভিড় এড়াতে চাইলে তালবেড়িয়া হতে পারে বিকল্প। জলাধারের ধারে বসে সময় কাটানো, চারপাশের জঙ্গল দেখা কিংবা প্রকৃতির ছবি তোলার মতো সাধারণ আনন্দই এখানে ভ্রমণের বড় আকর্ষণ।পরিবারের সঙ্গে যেমন যাওয়া যায়, তেমনই বন্ধুদের দল বা প্রিয় মানুষকে নিয়েও ছোট্ট দিনের সফর করা যেতে পারে।

যাওয়ার আগে রাস্তার অবস্থা জেনে নিন

তালবেড়িয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যতই আকর্ষণীয় হোক, যাওয়ার আগে রাস্তার পরিস্থিতি মাথায় রাখা দরকার। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ঝিলিমিলি থেকে জলাধারের দিকে যাওয়ার পথে, বিশেষ করে রানিবাঁধ গভর্নমেন্ট কলেজের দিক থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা তুলনামূলক সংকীর্ণ এবং কয়েকটি অংশের অবস্থা খারাপ।বর্ষার সময়ে কোথাও কাদা বা জল জমে গেলে যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে। তাই গাড়ি নিয়ে গেলে ধীরে ও সতর্কভাবে চলা উচিত।

পর্যটন বাড়লে উপকৃত হতে পারে স্থানীয়রা

স্থানীয়দের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে তালবেড়িয়ায় পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে। পর্যটন বাড়লে স্থানীয় দোকান, খাবারের স্টল, হোমস্টে-সহ ছোট ব্যবসার সুযোগও তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।অর্থাৎ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পাশাপাশি এই এলাকার স্থানীয় অর্থনীতিতেও পর্যটকদের আনাগাটার প্রভাব পড়তে পারে।

প্রকৃতি দেখতে গিয়ে পরিবেশের কথাও মাথায় রাখুন

অফবিট জায়গার সৌন্দর্য ধরে রাখতে পর্যটকদেরও দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি। জলাধারের আশপাশে প্লাস্টিক বা আবর্জনা না ফেলা, জঙ্গলের পরিবেশ নষ্ট না করা এবং জলাশয়ের কাছে সতর্ক থাকা উচিত।প্রকৃতিকে যতটা সম্ভব অক্ষত রেখেই এই নিরিবিলি গন্তব্যের সৌন্দর্য উপভোগ করাই হতে পারে ভ্রমণের সেরা নিয়ম।

পুজোর ছুটিতে মুকুটমণিপুর, বিষ্ণুপুরের মতো পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের বদলে নিরিবিলি প্রকৃতির স্বাদ নিতে চাইলে দক্ষিণ বাঁকুড়ার তালবেড়িয়া জলাধার হতে পারে অন্যরকম গন্তব্য। জঙ্গল, পাহাড়ি পরিবেশ ও বিস্তীর্ণ জলরাশির মেলবন্ধনে জায়গাটি ছোট ছুটির জন্য আকর্ষণীয়।

Leave a comment