তারাপীঠ: পুজো দিতে তারাপীঠে এসে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা ভাবতেও পারেননি পর্যটকরা। সোমবার ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ তারাপীঠ থানার কাছে একটি বেসরকারি হোটেলে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘুমের মধ্যেই আচমকা আগুনের আতঙ্কে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় হোটেলে। দমকল ও পুলিশের তৎপরতায় বহু আবাসিককে উদ্ধার করা গেলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন।
কীভাবে ঘটল ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড?
প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, হোটেলের একটি ঘরে এসির অংশ থেকে শর্ট সার্কিটের জেরে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ভোরের দিকে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ঘুমন্ত আবাসিকরা বিপদ বুঝে ওঠার আগেই হোটেলের একাধিক অংশ ধোঁয়া ও আগুনে ভরে যায়।আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে হোটেলে থাকা পর্যটকদের বেরিয়ে আসতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল এবং পুলিশ। গোটা হোটেল চত্বর ঘিরে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়।
মৃত ৮, পাঁচজনই মেঘালয়ের
প্রশাসনের তরফে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি মেঘালয়ে বলে জানা গিয়েছে।
মৃতদের তালিকায় রয়েছেন—
রাজেন্দ্র নাথ — মেঘালয়
আশা নাথ — মেঘালয়
বুরান মাদাক — মেঘালয়
শিবরাজ মাদাক — মেঘালয়, বয়স ১০ বছর
আউশনাথ মাদাক — মেঘালয়, বয়স আনুমানিক ৮ বছর
কামাল রায় — আলিপুরদুয়ার
অমিত পাল — আলিপুরদুয়ার
সুবীর সাহা — আলিপুরদুয়ার
অর্থাৎ মৃতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে।
আরও কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি
পুলিশ প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হোটেল থেকে মোট ২৮ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও সাতজনকে উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।অগ্নিকাণ্ডের পর দমকল এবং পুলিশ আধিকারিকরা দফায় দফায় হোটেলের ভিতরে তল্লাশি চালান। ঘটনাস্থলে পৌঁছন বীরভূমের পুলিশ সুপার ভিদিত রাজ ভুন্দেশ।
আগুনের মধ্যে আটকে পড়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে ভয়াবহ সেই রাতের ছবি। ঘুমের মধ্যে আচমকা বাইরে চিৎকার শুনে অনেকেই দরজা খুলতে যান। কিন্তু দরজা খুলতেই সামনে দেখা যায় আগুনের লেলিহান শিখা। প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত দরজা বন্ধ করে ঘরের ভিতরেই আটকে থাকতে হয় তাঁদের।কিছু ঘরে জানলা না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে কার্যত বদ্ধ ঘরের মধ্যে আতঙ্কে সময় কাটাতে হয় পর্যটকদের। দমকল ও পুলিশকে ফোন করে সাহায্যের অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা।
তদন্ত শুরু
ঠিক কী কারণে আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল, হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
তারাপীঠে ভোররাতে একটি বেসরকারি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮। মৃতদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি মেঘালয়ে এবং তিনজন আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। আগুনে আহত আরও কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।











