সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খুলতে আর শুধু মোবাইল নম্বর বা ইমেল যথেষ্ট হবে? ভবিষ্যতে Facebook, Instagram-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য e-KYC বাধ্যতামূলক করার দাবি উঠছে। নাগপুরের সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে এক নাবালিকার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও বর্তমানে সব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে e-KYC বাধ্যতামূলক করার কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা এখানে বলা হয়নি।

নাগপুরের ঘটনার পর কেন উঠছে e-KYC-এর দাবি?
নাগপুরে এক যুবক ভুয়ো পরিচয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খুলে এক ১৬ বছরের কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বলে অভিযোগ। ধীরে ধীরে বিশ্বাস তৈরি করার পর তাকে দেখা করার জন্য ডাকা হয়। এরপর একটি ফ্ল্যাটে ওই কিশোরীকে আটকে রাখার অভিযোগ সামনে আসে।অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে তাকে বন্দি রাখা ও নির্যাতন করা হয়েছিল। পরে এক ডেলিভারি কর্মীর উপস্থিত বুদ্ধিতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং অভিযুক্তকে আটক করা হয়। ঘটনার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই আরও কঠোর করার দাবি জোরালো হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার e-KYC আসলে কী?
e-KYC-এর অর্থ হল ইলেকট্রনিকভাবে ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করা। ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় KYC-এর মতোই সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন ব্যবস্থা চালু হলে অ্যাকাউন্ট তৈরির সময় সরকারি পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করা হতে পারে।আধার, PAN, ভোটার কার্ড বা পাসপোর্টের মতো নথি ব্যবহার করে পরিচয় নিশ্চিত করার মডেল নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে ঠিক কোন নথি, কী পদ্ধতিতে এবং কোন প্ল্যাটফর্মে এই ব্যবস্থা চালু হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের সরকারি নীতি ও সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নিয়মের উপর।

ভুয়ো অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হতে পারে
e-KYC বাধ্যতামূলক হলে ভুয়ো পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করা তুলনামূলক কঠিন হয়ে উঠতে পারে। প্রতারণা, সাইবার হয়রানি বা অন্য কোনও অপরাধের ক্ষেত্রে তদন্তকারী সংস্থার কাছে ব্যবহারকারীর পরিচয় শনাক্ত করার পথও সহজ হতে পারে।বিশেষ করে একই ব্যক্তির একাধিক ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করে প্রতারণা চালানোর প্রবণতা কমানোর ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন এই ব্যবস্থার সমর্থকেরা।
নাবালকদের নিরাপত্তাতেও কি কাজে আসবে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় নাবালকদের সুরক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। অনেক সময় বয়স বা পরিচয় গোপন করে অ্যাকাউন্ট তৈরির ফলে অপ্রাপ্তবয়স্করা অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের ঝুঁকিতে পড়ে।পরিচয় ও বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে নাবালকদের জন্য অনুপযুক্ত অ্যাকাউন্ট বা কনটেন্টে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে ভুয়ো পরিচয়ে নাবালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রবণতাও নজরদারির আওতায় আনা সম্ভব হতে পারে।
তবে রয়েছে Privacy ও Data Leak-এর আশঙ্কাও
সোশ্যাল মিডিয়ায় e-KYC চালুর পক্ষে যেমন যুক্তি রয়েছে, তেমনই এর বিরোধিতার জায়গাও রয়েছে। ব্যবহারকারীর আধার, PAN বা অন্য পরিচয়পত্রের তথ্য কোনও প্ল্যাটফর্মের হাতে গেলে সেই তথ্য কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে, কে তা দেখতে পারবে এবং তথ্য ফাঁস হলে দায় কার—এই প্রশ্নগুলি গুরুত্বপূর্ণ।তাই শুধু পরিচয় যাচাই করলেই হবে না। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, ডেটা সুরক্ষা এবং ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা নিশ্চিত করার জন্য শক্তিশালী নিয়ম ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তাও প্রয়োজন হবে।

এখনই কি Facebook-Instagram-এ e-KYC বাধ্যতামূলক?
না। এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, নাগপুরের ঘটনার পর e-KYC বাধ্যতামূলক করার দাবি ও আলোচনা জোরালো হয়েছে। কিন্তু Facebook, Instagram-সহ সব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের জন্য e-KYC ইতিমধ্যেই বাধ্যতামূলক হয়ে গিয়েছে—এমন কোনও তথ্য এখানে নেই।অর্থাৎ, বিষয়টি আপাতত দাবি ও নীতিগত আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে সরকার বা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনও নতুন নির্দেশিকা জারি করলে তবেই এর বাস্তব প্রভাব স্পষ্ট হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণা ও অপরাধের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নাগপুরে এক নাবালিকার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অভিযোগের পর Facebook, Instagram-সহ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে e-KYC বাধ্যতামূলক করার দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। তবে এমন ব্যবস্থা চালু হলে যেমন ভুয়ো অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হতে পারে, তেমনই ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।









