পারমাণবিক চুক্তি হলে খামেনেইর সঙ্গে সাক্ষাতে প্রস্তুত ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি হলে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাতে প্রস্তুত। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন হামলা, আঞ্চলিক উত্তেজনা, ইরানের সতর্কবার্তা এবং বৈশ্বিক তেলবাজারের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি হলে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি জানান, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে কেন্দ্র করে একটি সম্ভাব্য সামরিক অভিযানকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে তা বাতিল করা হয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি যখন উত্তেজনাপূর্ণ এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক সংঘাতের পরিবেশ বিরাজ করছে, সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকার এবং হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই ধরনের বৈঠক তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার নয়, তবে দুই দেশের মধ্যে কোনো চুক্তি হলে তিনি এটিকে “সম্মানজনক আলোচনা” হিসেবে দেখবেন।

ট্রাম্প বলেন, “আমি দেখা করতে চাই না, কিন্তু যদি সাক্ষাৎ হয়, তাহলে আমি গর্বিত হব। যদি চুক্তি হয়, তাহলে সাক্ষাৎ সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, এমন কোনো বৈঠক হলে তা পূর্ণ সম্মানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে এবং তিনি ইরানি নেতৃত্বের প্রতি কূটনৈতিক আচরণ বজায় রাখবেন।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে কেন্দ্র করে তাঁর প্রশাসনের সময় সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল বলেও ট্রাম্প জানান। পরিকল্পনায় মার্কিন সেনাবাহিনীকে সরাসরি অভিযানে পাঠানোর প্রস্তাব ছিল, তবে তা পরে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে স্থগিত করা হয়। তাঁর মতে, ওই অভিযানে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। তিনি বলেন, ইরানের মতো দেশ থেকে পারমাণবিক উপাদান সংগ্রহ কোনো ছোট আকারের অভিযান নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি, কৌশলগত এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক কার্যক্রম।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় টার্মিনাল-১ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে এক ভারতীয় নাগরিক নিহত এবং ৬৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটি অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এবং ড্রোন যুদ্ধকৌশলের অংশ হতে পারে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো পক্ষের দায় নির্ধারণ করা হয়নি।

অন্যদিকে, ওমানের মিনা আল ফাহাল তেল টার্মিনালে একটি বিস্ফোরণের পর অপরিশোধিত তেল লোডিং সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণটি SBM-1 এবং SBM-2 বার্থের মাঝখানে ঘটে এবং এটিকে সম্ভাব্য ড্রোন হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ঘটনার পর বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। টায়ার শহরের জাবাল আমেল হাসপাতালের আশপাশে একাধিক বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা হাসপাতালের আশপাশে আঘাত হানে। এর আগে একই এলাকায় হামলায় বহু মানুষের মৃত্যু এবং হাসপাতালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।

ইরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের স্বার্থ বা সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এলে তারা কঠোর জবাব দেবে। তেহরান আরও বলেছে, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো দেশগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা না হয়; অন্যথায় এর ফলাফল গুরুতর হবে। এই সতর্কবার্তার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

মার্কিন রাজনীতিতেও ইরান নীতি নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ একটি প্রস্তাব পাস করেছে, যেখানে প্রেসিডেন্টের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে বলেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতিকে দুর্বল করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের দামে সামান্য পতন হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ০.৬৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭.১৪ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে WTI ক্রুডের দাম প্রায় ০.৬৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতির প্রত্যাশা বাজারকে কিছুটা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে।

 

Leave a comment