ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন (ইউজিসি) ‘নিউ ইক্যুইটি গাইডলাইনস ২০২৬’-এর অধীনে দেশের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইক্যুয়াল অপরচুনিটি সেন্টার (EOC) এবং ইক্যুইটি কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করেছে। নির্দেশিকাগুলি ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হিসেবে ধরা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি ইক্যুয়াল অপরচুনিটি সেন্টার স্থাপন করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা যে কোনও ধরনের বৈষম্য সংক্রান্ত অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন। অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখার ব্যবস্থাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
একই সঙ্গে একটি ইক্যুইটি কমিটি গঠন করা হবে, যা প্রাপ্ত অভিযোগগুলির তদন্ত ও নিষ্পত্তির দায়িত্বে থাকবে। এই কমিটিতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের পাশাপাশি তফসিলি জাতি (SC), তফসিলি উপজাতি (ST), অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC), মহিলা, সংখ্যালঘু এবং দিব্যাঙ্গ শ্রেণির প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ইউজিসির মতে, এই কাঠামোর মাধ্যমে সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সময়মতো অভিযোগ নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।

নির্দেশিকাগুলি কার্যকর হওয়ার পর প্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের মতে, বিভিন্ন নির্দিষ্ট শ্রেণির প্রতিনিধিত্বের উল্লেখ থাকলেও সাধারণ শ্রেণির জন্য আলাদা প্রতিনিধির কথা বলা হয়নি। এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এবং কিছু সংগঠন আপত্তি জানিয়েছে।
এছাড়াও, মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির স্পষ্ট বিধান না থাকাকে নির্দেশিকার একটি সীমাবদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, নিয়মের অপব্যবহার হতে পারে। অন্যদিকে, ইউজিসি ও সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্দেশিকাগুলি কোনও শ্রেণির বিরুদ্ধে নয় এবং এর উদ্দেশ্য বৈষম্য প্রতিরোধ ও সকল শিক্ষার্থীর স্বার্থ সংরক্ষণ।
নতুন ব্যবস্থার ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। EOC-এর মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ দাখিলের সুযোগ এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রতিষ্ঠানের জবাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।










