Union Budget 2026: দেশীয় শিল্পে জোর, মূলধনী পণ্য উৎপাদনে ২৩,০০০ কোটি টাকার ইনসেন্টিভের পথে কেন্দ্র

Union Budget 2026: দেশীয় শিল্পে জোর, মূলধনী পণ্য উৎপাদনে ২৩,০০০ কোটি টাকার ইনসেন্টিভের পথে কেন্দ্র

Union Budget 2026-কে সামনে রেখে দেশীয় উৎপাদন শক্তিশালী করার রূপরেখা তৈরি করছে কেন্দ্র সরকার। সূত্রের খবর, উচ্চ-টন ওজনের ও প্রযুক্তিনির্ভর মূলধনী পণ্যের আমদানি কমাতে প্রায় ২৩,০০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা হতে পারে। এই উদ্যোগ ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও শিল্প স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমদানি নির্ভরতা কমাতে কৌশলগত পদক্ষেপ

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই ইনসেন্টিভ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল ভারী ও সম্পূর্ণ প্রস্তুত যন্ত্রপাতির বিদেশি আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো। বর্তমানে বহু উচ্চমূল্যের মূলধনী পণ্য চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও জার্মানির মতো দেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যা দেশীয় শিল্পের বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

নির্মাণ সরঞ্জাম খাতে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ

প্রস্তাবিত প্যাকেজের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি বরাদ্দ হতে পারে নির্মাণ সরঞ্জাম খাতে। এই খাতে ১৪,০০০ থেকে ১৬,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রণোদনার পরিকল্পনা রয়েছে। টানেল বোরিং মেশিন, ক্রেন ও ভারী যন্ত্রাংশের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।

চিন-নির্ভরতা কাটাতে দেশীয় প্রযুক্তিতে জোর

অতীতে চিনের টানেল বোরিং মেশিন রফতানিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতের একাধিক বড় পরিকাঠামো প্রকল্প ব্যাহত হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়ে এবার হাইড্রলিক সিস্টেম, আন্ডারক্যারেজ, ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল ইউনিট, সেন্সর ও টেলিমেটিক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে চাইছে সরকার।

স্বয়ংচালিত শিল্পে বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খল গঠনের লক্ষ্য

স্বয়ংচালিত শিল্পের জন্য আলাদা করে প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রস্তাব রয়েছে। উন্নত ড্রাইভার সহায়তা ব্যবস্থা (ADAS), ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা ও অত্যাধুনিক সেন্সরের দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করা হবে। লক্ষ্য থাকবে অন্তত ৫০ শতাংশ দেশীয় মূল্য সংযোজন, যা ভবিষ্যতে রফতানির পথও খুলে দিতে পারে।

প্রোটোটাইপিং কেন্দ্র ও শিল্প অংশীদারিত্ব

এই প্রকল্পের আওতায় প্রোটোটাইপিং ও পরীক্ষামূলক পরিকাঠামোর জন্য বিশেষ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি ছাঁচ, পাওয়ার টুল ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী পণ্যে ভর্তুকি দেওয়া হতে পারে। শিল্প সংস্থাগুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা বাড়ানোই লক্ষ্য।

আসন্ন কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-এ উচ্চমূল্যের মূলধনী পণ্যের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে বড় ঘোষণা করতে পারে কেন্দ্র। নির্মাণ সরঞ্জাম ও স্বয়ংচালিত খাতে মোট ২৩,০০০ কোটি টাকার ইনসেন্টিভ প্যাকেজের মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমানোই মূল লক্ষ্য।

Leave a comment