বর্ষার সবুজে সুন্দরবন যেন আরও মোহময়। কিন্তু সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখতে সবসময় লঞ্চে চেপে গভীর জঙ্গলে যেতে হবে, এমনটা নয়। উত্তর ২৪ পরগনার সামসেরনগরের কালিতলা এমনই এক তুলনামূলক অপরিচিত জায়গা, যেখানে একদিকে মানুষের ঘরবাড়ি, অন্যদিকে খাঁড়ির ওপারে ম্যানগ্রোভের জঙ্গল। প্রকৃতি, নদী, মাছ-কাঁকড়া আর স্থানীয় জীবনযাত্রার একসঙ্গে দেখা মেলে এই এলাকায়।
জনবসতির পাশেই সুন্দরবনের জঙ্গল
নদী ও খাঁড়িকে ঘিরেই এখানকার বহু মানুষের জীবনযাত্রা। মাছ, কাঁকড়া-সহ বিভিন্ন জলজ সম্পদ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন স্থানীয়রা। এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সুন্দরবনের প্রকৃতির এমন ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই জায়গাটিকে আলাদা করে তুলেছে।
ভাগ্য ভালো হলে দেখা মিলতে পারে বন্যপ্রাণীর
স্থানীয়দের দাবি, ভোর বা সন্ধ্যার দিকে কখনও কখনও লোকালয়ের কাছাকাছি হরিণের দেখা মেলে। খাঁড়ি ধরে নৌকায় জঙ্গলের কাছাকাছি গেলে ভাগ্য সহায় হলে বাঘের দর্শনও হতে পারে। তবে বাঘ দেখা কোনওভাবেই নিশ্চিত নয়।পর্যটকদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি যাওয়া বা জঙ্গলে প্রবেশের ক্ষেত্রে বন দফতরের নিয়ম মেনে চলা জরুরি। নিরাপত্তার সঙ্গে কোনওরকম আপস করা উচিত নয়।
কলকাতা থেকে কীভাবে যাবেন?
সামসেরনগরের এই অংশে কলকাতা থেকে বাইক বা গাড়িতে স্থলপথে যাওয়া যায়। বাসন্তী হাইওয়ে ধরে মালঞ্চ হয়ে টাকি রোডের দিকে এগিয়ে হাসনাবাদ, তারপর লেবুখালী রোড ধরে সামসেরনগরের ফরেস্ট রেঞ্জ এলাকার দিকে পৌঁছনো যায়।বর্ষাকালে রাস্তার দু'পাশের সবুজ প্রকৃতি এই যাত্রাপথের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে রওনা হওয়ার আগে রাস্তার পরিস্থিতি ও আবহাওয়ার খবর জেনে নেওয়া ভাল।
ট্রেনে গেলে কোন পথে?
ট্রেনে যেতে চাইলে শিয়ালদহ থেকে হাসনাবাদ লোকাল ধরে হাসনাবাদ পৌঁছনো যায়। সেখান থেকে স্থানীয় পরিবহণের সাহায্যে সামসেরনগর ও সংলগ্ন এলাকায় যাওয়া সম্ভব।কালিতলা এলাকায় সাধারণ মানের থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। চাইলে সেখানে থেকে স্থানীয় পরিষেবা নিয়ে খাঁড়ি ও জঙ্গলের কাছাকাছি ঘোরার পরিকল্পনা করা যায়।
বর্ষায় গেলে কী কী সতর্কতা?
বর্ষাকালে সুন্দরবনের নদী-খাঁড়ির চারপাশ আরও সবুজ হয়ে উঠলেও আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন এবং জলের স্রোত পর্যটকদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই নৌভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও বন দফতরের অনুমোদিত পরিষেবা ব্যবহার করাই নিরাপদ।জঙ্গলের দিকে যাওয়ার সময় নির্ধারিত পথের বাইরে না যাওয়া এবং বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা না করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুন্দরবন মানেই ক্যানিং, গোসাবা কিংবা লঞ্চে চেপে গভীর জঙ্গলে যাত্রা—এমন ধারণা এবার বদলাতে পারে। উত্তর ২৪ পরগনার সামসেরনগরের কালিতলা ও সংলগ্ন এলাকায় জনবসতির একেবারে পাশেই দেখা মেলে সুন্দরবনের জঙ্গল। বাইক বা গাড়িতে স্থলপথে পৌঁছে প্রকৃতি উপভোগের পাশাপাশি খাঁড়ির ধারে পাওয়া যায় সুন্দরবনের অন্যরকম অভিজ্ঞতা।













