যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালীতে ১,৫০০-র বেশি জাহাজ আটকে

মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১,৫০০-র বেশি জাহাজ আটকে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ইরানি তেল ট্যাঙ্কার ও সামুদ্রিক স্থাপনায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলার অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। ইরান দাবি করেছে, কথিত যুদ্ধবিরতির সময় এই হামলা চালানো হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।

ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর আশপাশে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও প্রভাব পড়ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে ১,৫০০-র বেশি জাহাজ আটকে রয়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও শিপিং রুট ব্যাহত হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছেন, হরমুজ অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল, যা মার্কিন সেনাবাহিনী সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তাঁর দাবি, পাল্টা অভিযানে ইরানের নৌ ইউনিটগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেছেন যে মার্কিন জাহাজগুলো নিরাপদে প্রণালী অতিক্রম করেছে এবং কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে এখনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

ইরানের সরকারি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সেনাবাহিনী জাস্ক অঞ্চলের কাছে সামুদ্রিক পথে একটি ইরানি তেল ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইরানের দাবি, এই হামলা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের লঙ্ঘন এবং এর ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে।

ইরান সতর্ক করে বলেছে, তারা এই পদক্ষেপের “কঠোর জবাব” দেবে এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৩০ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হতে পারে।

এই সম্ভাব্য সমঝোতার লক্ষ্য উত্তেজনা কমানো এবং একটি স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়া বলে জানানো হয়েছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বিরোধ এখনো বহাল রয়েছে।

আলোচনায় মার্কিন পক্ষের দাবি, ইরানকে উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম মজুত সীমিত করতে হবে এবং প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলো বন্ধ করতে হবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার শর্তও যুক্তরাষ্ট্র তুলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইরান একটি বিকল্প প্রস্তাবে বলেছে, তারা নিজেদের কিছু ইউরেনিয়াম মজুত দুর্বল করবে এবং বাকি উপাদান কোনো তৃতীয় দেশে, যেমন রাশিয়ার কাছে, হস্তান্তর করতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

হরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। সেখানে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থাও সতর্ক করেছে যে এই সংকটের কারণে হাজারো নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে মানবিক ও অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই চাপ বাড়ছে।

 

Leave a comment