মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump জার্মানির চ্যান্সেলর Friedrich Merz-এর বিরুদ্ধে সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন। ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্যের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র তার ন্যাটো সহযোগী জার্মানি থেকে প্রায় ৫,০০০ সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ওয়াশিংটন থেকে পেন্টাগনের শুক্রবারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র জার্মানিতে অবস্থানরত প্রায় ৫,০০০ মার্কিন সেনা ফিরিয়ে আনবে। এই সিদ্ধান্ত ট্রান্স-অ্যাটলান্টিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষত এমন সময়ে যখন ন্যাটোর ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ইরানকে ঘিরে সংঘাত ও কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় সহযোগীদের, বিশেষ করে জার্মানিকে, প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যুতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছে।
ট্রাম্প ও মের্ৎসের মধ্যে বিরোধ
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প এবং মের্ৎসের মধ্যে তীব্র বক্তব্য বিনিময় হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে গুরুতর মতভেদ প্রকাশ পেয়েছে। মের্ৎস সম্প্রতি বলেছেন, এই সংঘাতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে “অপমানিত” করছে এবং বর্তমান আলোচনা কার্যকর নয়।

এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেছেন, মের্ৎস “পরিস্থিতি বুঝতে ব্যর্থ” হচ্ছেন। এর পর ট্রাম্প জার্মানিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনা কমানোর সতর্কবার্তা দেন, যা এখন কার্যকর করা হচ্ছে।
ন্যাটো ও ইউরোপীয় নিরাপত্তা
জার্মানিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব সেনা ন্যাটোর যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থান করছে। সৈন্য প্রত্যাহার জার্মানি এবং সমগ্র ইউরোপের নিরাপত্তা কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ইউরোপের ওপর চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল হতে পারে, যাতে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা দায়িত্ব আরও গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে। একই সঙ্গে ন্যাটোর অভ্যন্তরে আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ দুর্বল হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে হরমুজ প্রণালীর সংকট, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমানে ইরানের দ্বারা এই পথ অবরুদ্ধ হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা ইরানি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়ছে।
এই প্রসঙ্গে মের্ৎস বলেছেন, জার্মানি তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার জন্য প্রস্তুত। তিনি বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন, যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে।











