উত্তরাখণ্ডে জাল শংসাপত্রে MBBS ভর্তি মামলায় ৫ সদস্যের SIT গঠন

উত্তরাখণ্ডে স্বাধীনতা সংগ্রামী নির্ভরশীল কোটার জাল শংসাপত্রে MBBS ভর্তি মামলায় পাঁচ সদস্যের SIT গঠন করা হয়েছে। চারটি ভর্তি বাতিল এবং পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডে জাল শংসাপত্রে MBBS ভর্তি মামলায় ৫ সদস্যের SIT গঠন
Photo Credit / Attribution: Google

উত্তরাখণ্ডে জাল শংসাপত্রের ভিত্তিতে এমবিবিএস-এ ভর্তি সংক্রান্ত মামলায় পুলিশের তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। দেরাদুনে সামনে আসা এই ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন এসপি গ্রামীণ। রায়পুর এবং ক্লেমেনটাউন থানায় নথিভুক্ত দুটি মামলার যৌথ তদন্ত করবে সিট।

মামলাটি স্বাধীনতা সংগ্রামী নির্ভরশীল কোটার কথিত জাল শংসাপত্র ব্যবহার করে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস আসন পাওয়ার সঙ্গে যুক্ত। জাল শংসাপত্র তৈরি করা থেকে শুরু করে সেগুলি যাচাই ও কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে কারা জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঘটনা সামনে আসার পর চিকিৎসা শিক্ষা দফতর এবং হেমবতী নন্দন বহুগুণা উত্তরাখণ্ড চিকিৎসা শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফেও পদক্ষেপ করা হয়েছে। উপলব্ধ রিপোর্ট অনুযায়ী, স্বাধীনতা সংগ্রামী নির্ভরশীল কোটায় ভর্তির জন্য জমা দেওয়া পাঁচটি শংসাপত্র সন্দেহজনক পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের মাধ্যমে যাচাইয়ের পর শংসাপত্রগুলি জাল বলে জানা যায়। এরপর চারজন প্রার্থীর এমবিবিএস ভর্তি বাতিল করা হয়।

এখন সিট তদন্ত করবে, শংসাপত্রগুলি কোন স্তরে তৈরি করা হয়েছিল, কারা সেগুলি ব্যবহার করেছিলেন এবং যাচাই প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়ম কীভাবে ঘটেছিল।

পুলিশের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, জাল শংসাপত্রগুলি প্রার্থীরা নিজেরাই তৈরি করিয়েছিলেন, নাকি এর পেছনে কোনো সংগঠিত চক্র কাজ করছিল। এই কারণে দুটি পৃথক থানায় নথিভুক্ত মামলাকে একত্র করে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রায়পুর এবং ক্লেমেনটাউন থানায় নথিভুক্ত মামলায় অভিযুক্তদের সঙ্গে বিভিন্ন নথির যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তকারী দল আবেদন প্রক্রিয়া, রাজস্ব শংসাপত্র, সংশ্লিষ্ট ঠিকানা, যাচাই রিপোর্ট এবং মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সঙ্গে সম্পর্কিত নথিগুলি মিলিয়ে দেখবে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মামলায় চারজন ছাত্রী এবং এক ছাত্রীর মা-সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, স্বাধীনতা সংগ্রামী নির্ভরশীল কোটার সুবিধা নেওয়ার জন্য এমন নথি জমা দেওয়া হয়েছিল, যেগুলি পরবর্তী তদন্তে সন্দেহজনক বা জাল বলে পাওয়া যায়।

পুলিশ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রতারণা এবং জালিয়াতি সংক্রান্ত ধারায় পদক্ষেপ করেছে। তবে মামলা নথিভুক্ত হওয়া অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ বা কোনো ব্যক্তির দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়। পুলিশের তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসবে।

তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সেই ঠিকানাগুলি, যার ভিত্তিতে শংসাপত্রগুলি জারি করানো হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রশাসনিক যাচাইয়ে এমন কিছু ঠিকানা সামনে আসে, যেখানে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের প্রকৃতপক্ষে বসবাসের বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি।

পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, এই ঠিকানাগুলি কোন স্তরে যাচাই করা হয়েছিল এবং শংসাপত্র জারি করার আগে ঘটনাস্থলে যাচাই করা হয়েছিল কি না। এই প্রক্রিয়ায় রাজস্ব দফতরের রেকর্ডও তদন্তের অংশ হতে পারে। এর মাধ্যমে নথি তৈরি এবং সরকারি প্রক্রিয়ায় সেগুলি ব্যবহারের মধ্যবর্তী বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

মামলার তদন্তে অনলাইন কাউন্সেলিং প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসা শিক্ষা দফতর অনুযায়ী, এনইইটি-ইউজি কাউন্সেলিং অনলাইনে হয় এবং প্রার্থীদের আপলোড করা আবেদন, শংসাপত্র ও অন্যান্য নথির ডিজিটাল রেকর্ড থাকে।

পুলিশ এই ডিজিটাল ট্রেল খতিয়ে দেখতে পারে। এর মাধ্যমে জানা যেতে পারে, নথিগুলি কখন আপলোড করা হয়েছিল, কোন স্তরে সেগুলি যাচাই করা হয়েছিল এবং আবেদন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় কোন কোন রেকর্ড নথিভুক্ত হয়েছিল।

সিটের তদন্ত শুধু ভর্তি নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। শংসাপত্র জারি করা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি বা অনিয়ম হয়েছিল কি না, তাও দলটি খতিয়ে দেখবে।

তদন্তে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ভূমিকা সামনে এলে তাঁর বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপের পথও খোলা থাকতে পারে। তবে বর্তমানে শংসাপত্রের কথিত অনিয়মে কোন স্তরে দায়িত্ব ছিল, তা নির্ধারণ করা তাড়াহুড়ো হবে। এর জন্য নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এই ঘটনা মেডিক্যাল কলেজে সংরক্ষিত শ্রেণির শংসাপত্র যাচাই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। জাল নথির মাধ্যমে কোনো প্রার্থী সরকারি এমবিবিএস আসন পেলে ভর্তি প্রক্রিয়া প্রভাবিত হওয়ার পাশাপাশি বৈধ নথি থাকা অন্য প্রার্থীদের সুযোগও প্রভাবিত হতে পারে।

ঘটনা সামনে আসার পর চিকিৎসা শিক্ষা দফতর শংসাপত্র যাচাই আরও কঠোর করার কথা জানিয়েছে। জাল স্বাধীনতা সংগ্রামী নির্ভরশীল শংসাপত্রের ঘটনা সামনে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অন্যান্য সংরক্ষিত শ্রেণির নথিও যাচাই শুরু করেছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এসসি-এসটি শ্রেণির অধীনে ভর্তি নেওয়া আরও আটজন প্রার্থীকে তাঁদের মূল নিবাস, জাতি এবং সংশ্লিষ্ট শ্রেণির শংসাপত্র নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে যাচাই করানোর জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো, সংরক্ষণের ভিত্তিতে ভর্তি নেওয়া প্রার্থীদের নথি বাস্তব এবং যাচাইকৃত কি না, তা নিশ্চিত করা।

চিকিৎসা শিক্ষা দফতরের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে ভবিষ্যতে কোনো সংরক্ষিত শ্রেণির সুবিধা দেওয়ার আগে নথি যাচাই আরও শক্তিশালী করা হবে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের তরফে ঘটনাস্থলে যাচাইয়ের পরই শংসাপত্র চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করার ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার সম্ভাবনা কমানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে নতুন ব্যবস্থার বাস্তব প্রভাব তার বাস্তবায়ন এবং নজরদারির ওপর নির্ভর করবে।

সিটের সামনে এখন একাধিক স্তরে তদন্তের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমে দুটি মামলার সঙ্গে যুক্ত নথি এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা মিলিয়ে দেখা হবে। এরপর শংসাপত্রের মূল ফাইল, রাজস্ব রেকর্ড, আবেদন প্রক্রিয়া, কাউন্সেলিং রেকর্ড এবং মেডিক্যাল কলেজ সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করা হতে পারে।

ডিজিটাল রেকর্ড থেকে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সামনে এলে পুলিশ সেই দিকেও জিজ্ঞাসাবাদ এগিয়ে নিতে পারে। পাশাপাশি কথিত জাল শংসাপত্র তৈরি বা সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা ছিল কি না, তাও দেখা হবে।

তদন্তে আরেকটি প্রশ্ন হলো, সন্দেহজনক শংসাপত্রগুলি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায়নি কেন। আবেদন এবং কাউন্সেলিংয়ের সময় নথি যাচাই করা হয়ে থাকলে কথিত জালিয়াতি তখনই সামনে আসার কথা।

পুলিশ ও প্রশাসন এখন শংসাপত্র যাচাইয়ের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্তর এবং কোথায় ঘাটতি থেকে গিয়েছিল, তা বোঝার চেষ্টা করবে। এই তদন্ত থেকে ভবিষ্যতের কাউন্সেলিং ব্যবস্থায় যাচাই প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার জন্যও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

সিটের তদন্তের পর মামলায় অভিযুক্তদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। বর্তমানে উপলব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে কথিত জাল শংসাপত্র তৈরির ক্ষেত্রে সব অভিযুক্তের ভূমিকা একই ছিল কি না, তা বলা সম্ভব নয়।

তদন্তে প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা, নথির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় তাঁর অংশগ্রহণ পৃথকভাবে খতিয়ে দেখা হবে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সব অভিযুক্তকে আইনত নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা হয়।

যে সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে এই শংসাপত্রের ভিত্তিতে ভর্তি হয়েছিল, সেগুলিও এই মামলার প্রভাবে রয়েছে। উপলব্ধ রিপোর্ট অনুযায়ী, চারজন ছাত্রীর বরাদ্দ ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে।

পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফেও নথি পর্যালোচনা চলছে। এর মাধ্যমে কথিত জালিয়াতির পরিধি শুধুমাত্র সামনে আসা ঘটনাগুলিতে সীমাবদ্ধ, নাকি শংসাপত্র যাচাইয়ে আরও অনিয়ম সামনে আসে, তা জানা যাবে।

পুরো ঘটনায় এখন সিটের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। পাঁচ সদস্যের দল দুটি মামলা একসঙ্গে দেখে ঘটনাপ্রবাহের বিভিন্ন যোগসূত্র মিলিয়ে দেখবে। আবেদন থেকে শংসাপত্র তৈরি, যাচাই, কাউন্সেলিং এবং এমবিবিএস আসন পাওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হবে।

তদন্তে সামনে আসা ডিজিটাল এবং নথিভিত্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে কথিত জালিয়াতি কোন স্তরে ঘটেছে এবং কারা এতে জড়িত ছিলেন, তা নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।

এই মুহূর্তে চারটি এমবিবিএস ভর্তি বাতিল হয়েছে, পাঁচটি সন্দেহজনক শংসাপত্রের তদন্তে জাল পাওয়া যাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে এবং পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। পুলিশ দুটি মামলাকে যৌথ তদন্তের জন্য সিটের হাতে দিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতিতে কথিত জাল শংসাপত্রের উৎস, যাচাই প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

Leave a comment