উত্তর প্রদেশে বিদ্যুতের দাম ৫০% পর্যন্ত বৃদ্ধির আশঙ্কা

উত্তর প্রদেশ পাওয়ার কর্পোরেশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজ্যের বিদ্যুতের দাম ৩০% থেকে ৫০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এই বৃদ্ধি গার্হস্থ্য, বাণিজ্যিক ও কৃষি ব্যবহারকারীদের উপর প্রভাব ফেলবে।

উত্তর প্রদেশের জনগণের শীঘ্রই বিদ্যুতের দামে ব্যাপক বৃদ্ধির সম্মুখীন হতে হতে পারে।

UPPCL: উত্তর প্রদেশে বসবাসরত কোটি কোটি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের আগামী দিনগুলিতে তাদের পারিবারিক বাজেটে বড় ধরণের পরিবর্তন আনতে হতে পারে। কারণ হল—উত্তর প্রদেশে প্রস্তাবিত বিদ্যুতের দামে ব্যাপক বৃদ্ধি। উত্তর প্রদেশ পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেড (UPPCL) রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশনে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দিয়েছে, যেখানে শহুরে এবং গ্রামীণ উভয় এলাকার ব্যবহারকারীদের জন্য বিদ্যুতের দামে গড়ে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। এই বৃদ্ধি গার্হস্থ্য, বাণিজ্যিক এবং কৃষি ব্যবহারকারীদের উপর সমানভাবে প্রভাব ফেলবে।

এই খবর প্রকাশের সাথে সাথেই রাজ্যের ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে, কারণ মূল্যবৃদ্ধির মারাত্মক প্রভাব ইতোমধ্যেই সাধারণ জনগণের পকেটে পড়েছে। এখন যদি বিদ্যুতের বিলেও ব্যাপক বৃদ্ধি হয় তাহলে এটি জনগণের উপর আরও বেশি বোঝা হয়ে উঠতে পারে।

বিদ্যুতের দামে কতটা বৃদ্ধি সম্ভব?

ইউপি পাওয়ার কর্পোরেশনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে যে শহুরে এলাকার গার্হস্থ্য ব্যবহারকারীদের জন্য বিদ্যুতের দামে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ এবং গ্রামীণ এলাকার গার্হস্থ্য ব্যবহারকারীদের জন্য ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃদ্ধি ব্যবহারকারীর মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের উপর নির্ভর করবে, অর্থাৎ যত বেশি ব্যবহার, তত বেশি অর্থ প্রদান করতে হবে।

বর্তমান এবং প্রস্তাবিত দরের তুলনা

শহুরে এলাকা (১০০ ইউনিট পর্যন্ত)

  • বর্তমান দর: ৫.৫০ টাকা প্রতি ইউনিট
  • প্রস্তাবিত দর: ৬.৫০ টাকা প্রতি ইউনিট

শহুরে এলাকা (৩০০ ইউনিটের বেশি)

  • বর্তমান দর: ৬.৫০ টাকা প্রতি ইউনিট
  • প্রস্তাবিত দর: ৯ টাকা প্রতি ইউনিট

গ্রামীণ এলাকা (১০০ ইউনিট পর্যন্ত)

  • বর্তমান দর: ৩.৩৫ টাকা প্রতি ইউনিট
  • প্রস্তাবিত দর: ৪.৫০ টাকা প্রতি ইউনিট

গ্রামীণ এলাকা (৩০০ ইউনিটের বেশি)

  • বর্তমান দর: ৫.৫০ টাকা প্রতি ইউনিট
  • প্রস্তাবিত দর: ৮ টাকা প্রতি ইউনিট

এই দরের সাথে ব্যবহারকারীদের ফিক্সড চার্জ, বিদ্যুৎ কর এবং অন্যান্য চার্জও যোগ করে পরিশোধ করতে হবে। এর ফলে বিদ্যুতের প্রকৃত দাম প্রতি ইউনিট ১২ থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, বিশেষ করে যাদের মাসিক ব্যবহার ৩০০ ইউনিটের বেশি, তাদের জন্য।

কাদের ক্ষেত্রে নতুন দর প্রযোজ্য হবে?

যদি রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশন ইউপি পাওয়ার কর্পোরেশনের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়, তাহলে এই নতুন দরগুলি রাজ্যের সমস্ত প্রধান বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা—যেমন পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ নিগম লিমিটেড (PVVNL), মধ্যঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ নিগম লিমিটেড (MVVNL), পূর্বাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ নিগম লিমিটেড (PUVNL), দক্ষিণাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ নিগম লিমিটেড (DVVNL) এবং কানপুর ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (KESCO)-র ব্যবহারকারীদের উপর প্রযোজ্য হবে।

এই সংস্থাগুলির গ্রাহকরা উত্তর প্রদেশের শহুরে এবং গ্রামীণ উভয় এলাকাতেই ছড়িয়ে রয়েছে। তাই এই বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি লক্ষ লক্ষ গার্হস্থ্য এবং শিল্প ব্যবহারকারীদের উপর পড়বে।

কখন দরের উপর চূড়ান্ত শুনানি হবে?

ইউপি পাওয়ার কর্পোরেশন কর্তৃক দাখিলকৃত এই প্রস্তাবের উপর রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশন জুলাই ২০২৫ থেকে শুনানি শুরু করবে। শুনানির পর যদি প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়, তাহলে আগস্ট বা সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে নতুন দর কার্যকর হতে পারে। প্রস্তাবিত দর কার্যকর হলে রাজ্যের ব্যবহারকারীদের বিদ্যুতের বিলে হঠাৎ বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।

কেন বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে?

বিদ্যুৎ সংস্থাগুলির দাবি, রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের খরচ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কয়লা, ট্রান্সমিশন, রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মচারীদের বেতন এবং বিতরণে বৃদ্ধি খরচ বিবেচনা করে বর্তমান দর থেকে খরচ উঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণেই দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও বিদ্যুৎ চুরি এবং লাইন লসের কারণেও সংস্থাগুলিকে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় সংস্থাগুলি এখন অতিরিক্ত বোঝা ব্যবহারকারীদের উপর চাপাতে চাইছে।

বিদ্যুৎ মোটে, তাহলে সাধারণ জনগণের পকেটে প্রভাব

বিদ্যুতের দামে এই ব্যাপক বৃদ্ধির প্রত্যক্ষ প্রভাব সাধারণ মানুষের পকেটে পড়বে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত পরিবার, যারা ইতোমধ্যেই মূল্যবৃদ্ধির মার খাচ্ছে, তাদের জন্য এটি আরও একটি আঘাত হবে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে দৈনন্দিন ব্যয়ের উপর অতিরিক্ত চাপ বাড়বে।

এতে শুধুমাত্র গার্হস্থ্য ব্যবহারকারীই নয়, ছোটো শিল্প, দোকানদার এবং ব্যবসায়ী শ্রেণীও প্রভাবিত হবে কারণ তাদের উৎপাদন এবং পরিচালন খরচ বেড়ে যাবে।

পূর্ণাঙ্গকরণের নিয়মও প্রযোজ্য হবে

নতুন দরের সাথে পূর্ণাঙ্গকরণ (Rounding off) এর নিয়মও প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ বিলের হিসাব করার সময় যদি চূড়ান্ত পরিমাণ ৪৯ পয়সা পর্যন্ত হয় তাহলে তা পূর্ববর্তী পুরো টাকার সাথে যোগ করা হবে এবং যদি ৫০ পয়সা বা তার বেশি হয় তাহলে তা পরবর্তী পুরো টাকায় পূর্ণাঙ্গ করা হবে। এতে কিছুটা ব্যবহারকারীদের আঘাত লাগতে পারে কারণ প্রতি ইউনিটের হিসাবের এই পার্থক্য বৃদ্ধি পেয়ে মোট বিলকে প্রভাবিত করতে পারে।

কি কোন স্বস্তির আশা আছে?

যদিও এটি এখনও শুধুমাত্র একটি প্রস্তাব এবং নিয়ন্ত্রক কমিশনের অনুমোদন বাকি আছে, তবে সাধারণ জনগণ এবং সামাজিক সংগঠনগুলি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা শুরু করেছে। অনেক গ্রাহক সংগঠনের দাবি, সরকারকে প্রথমে বিতরণ ব্যবস্থায় উন্নতি আনা উচিত এবং চুরি বন্ধ করা উচিত, নয় সরাসরি সাধারণ জনগণের উপর বোঝা চাপানো উচিত।

কিছু বিশেষজ্ঞ এও বলছেন যে বিদ্যুতের দামে এত বেশি বৃদ্ধির কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই, বিশেষ করে যখন রাজ্য সরকারগুলি ভর্তুকি দেওয়ার কথা বলে।

 

Leave a comment