New Achievement For Vaibhav Suryavanshi: একই দিনে জোড়া সুখবর পেলেন ভারতীয় ক্রিকেটের উঠতি তারকা বৈভব সূর্যবংশী। একদিকে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ দিয়ে প্রথম পঞ্চাশে জায়গা করে নিয়েছেন এই তরুণ ব্যাটার, অন্যদিকে দলীপ ট্রফির পূর্বাঞ্চলীয় দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্বও পেয়েছেন। ফলে অল্প বয়সেই তাঁর কেরিয়ারে যোগ হল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
দলীপ ট্রফিতে বড় দায়িত্ব বৈভবের
দলীপ ট্রফির জন্য পূর্বাঞ্চলীয় দলের ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। সেই দলেই সহ-অধিনায়ক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইশান কিষাণকে।মাত্র কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পরই এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া নিঃসন্দেহে বৈভবের কেরিয়ারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তরুণ ক্রিকেটারের উপর নির্বাচকদের আস্থা যে ক্রমশ বাড়ছে, এই সিদ্ধান্তে তারই ইঙ্গিত মিলছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নজর কেড়েছেন তরুণ ব্যাটার
সম্প্রতি ভারতীয় সিনিয়র দলে জায়গা করে নিয়েছেন বৈভব। ইংল্যান্ড সফরে তাঁর টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়। এরপর জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও নিজের ব্যাটিং দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে ৪৯ বলে ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়ে নেন এই বাঁহাতি ওপেনার। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং নির্ভীক মানসিকতা ইতিমধ্যেই প্রশংসা পেয়েছে।
আইসিসি র্যাঙ্কিংয়েও দুর্দান্ত উন্নতি
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অল্প সময়ের মধ্যেই পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়েছে বৈভবের র্যাঙ্কিংয়েও। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করে তিনি প্রথম পঞ্চাশের মধ্যে উঠে এসেছেন।দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ছয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পর র্যাঙ্কিংয়ে এক লাফে ৪৮ নম্বরে উঠে এসেছেন এই তরুণ। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর উত্থানের গতি যে যথেষ্ট দ্রুত, তা বলাই যায়।
ঘরোয়া ক্রিকেটেও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা
বৈভবের নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়া অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগেও ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর উপর আস্থা রেখেছে নির্বাচকরা। রঞ্জি ট্রফির ২০২৫-২৬ মরশুমের প্রথম দুই রাউন্ডে বিহার দলের সহ-অধিনায়ক হিসেবে তাঁকে মনোনীত করা হয়েছিল।এবার দলীপ ট্রফির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃআঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় পূর্বাঞ্চলীয় দলের সহ-অধিনায়ক হওয়া তাঁর নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
পূর্বাঞ্চলীয় দলে তারকাদের ভিড়
পূর্বাঞ্চলীয় দলের স্কোয়াডে বৈভব ছাড়াও একাধিক পরিচিত ক্রিকেটার রয়েছেন। দলের নেতৃত্বে থাকবেন ইশান কিষাণ। এছাড়াও দলে রয়েছেন বাংলার অভিজ্ঞ পেসার মহম্মদ শামি, অভিমন্যু ঈশ্বরণ, মুকেশ কুমার, শাহবাজ আহমেদ এবং কুমার কুশাগ্র।ফলে এই দলে তরুণ প্রতিভা এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সংমিশ্রণ দেখা যাচ্ছে। বৈভবের মতো উঠতি ক্রিকেটারের জন্য এমন দলের অংশ হওয়া ভবিষ্যতের পথ আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
নজরে মহম্মদ শামিও
পূর্বাঞ্চলীয় দলের অন্যতম বড় আকর্ষণ মহম্মদ শামি। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের পর থেকে ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা যায়নি এই অভিজ্ঞ পেসারকে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি সক্রিয় ছিলেন।২০২৫-২৬ মরশুমে বাংলার হয়ে খেলেছেন শামি। পাশাপাশি আইপিএল ২০২৬-এ লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে ১৪টি ম্যাচের মধ্যে ১৩টিতে খেলেছেন তিনি। দলীপ ট্রফিতে তাঁর অভিজ্ঞতা পূর্বাঞ্চলীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ভবিষ্যতের ভারতীয় দলে বৈভবকে নিয়ে বড় প্রত্যাশা
বৈভবের সাম্প্রতিক উত্থান দেখে ইতিমধ্যেই তাঁকে নিয়ে ভবিষ্যতের ভারতীয় দলের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাক্তন ক্রিকেটার অশোক মালহোত্রার মতে, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে বৈভবকে ওয়ানডে স্কোয়াডে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও বেশি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেলে বৈভব ভবিষ্যতে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠতে পারেন। তবে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত ও ক্রিকেটারের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করবে।
কবে শুরু দলীপ ট্রফি?
দলীপ ট্রফির এই বহুদিনের লাল বলের প্রতিযোগিতা আগামী ২৩ আগস্ট বেঙ্গালুরুতে শুরু হওয়ার কথা। সেখানে পূর্বাঞ্চলের হয়ে বৈভব সূর্যবংশীর পারফরম্যান্সের দিকে নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সাফল্যের পর ঘরোয়া লাল বলের ক্রিকেটে তিনি কীভাবে নিজেকে মেলে ধরেন, সেটিও হতে চলেছে তাঁর কেরিয়ারের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
কেরিয়ারের দুর্দান্ত সময়ের মধ্যেই আরও বড় দায়িত্ব পেলেন তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে বড়সড় উন্নতির পর এবার দলীপ ট্রফির পূর্বাঞ্চলীয় দলে সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হলেন তিনি। ১৫ সদস্যের দলের অধিনায়কত্ব করবেন ইশান কিষাণ। অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নজর কেড়ে নেওয়া বৈভবের উপর নির্বাচকদের আস্থার আরও একটি বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই সিদ্ধান্তকে।









