বাড়িতে অশান্তি, অনটন বা আর্থিক অস্থিরতা কি দীর্ঘদিন ধরে লেগেই আছে? অনেকেই মনে করেন, এর নেপথ্যে শুধু পরিস্থিতি নয়, বাড়ির শক্তির ভারসাম্যও বড় কারণ। বাস্তুশাস্ত্র বলছে, সঠিক উপায়ে কয়েকটি শুভ মূর্তি স্থাপন করলে সংসারে পজিটিভ এনার্জি বাড়ে এবং সুখ-সমৃদ্ধির পথ খুলে যায়।
বাস্তুশাস্ত্রে পজিটিভ এনার্জির গুরুত্ব
বাস্তু মতে, যে বাড়িতে পজিটিভ এনার্জি বেশি থাকে, সেখানে শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও আর্থিক স্থিতি বজায় থাকে। বিপরীতে নেগেটিভ এনার্জি বাড়লে দাম্পত্য কলহ, কাজের বাধা ও অর্থকষ্ট দেখা দেয়। তাই বাড়িতে এমন কিছু প্রতীক রাখা জরুরি, যা শুভ শক্তিকে আকর্ষণ করে।
পেঁচার মূর্তি: লক্ষ্মীর বাহনের প্রতীক
বাস্তু অনুযায়ী পেঁচা মা লক্ষ্মীর বাহন। তাই বাড়িতে পেঁচার মূর্তি রাখা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, যে বাড়িতে পেঁচার মূর্তি থাকে, সেখানে মা লক্ষ্মীর স্থায়ী বাস হয়। এর ফলে উপার্জন বাড়ে, ধনাগমন ঘটে এবং সংসারে সুখ ফিরে আসে।

গণেশের মূর্তি: বিঘ্ননাশক শক্তি
সিদ্ধিদাতা গণেশ হলেন বিঘ্ননাশক ও অগ্রপুজ্য। তাই বড় ব্যবসায়ী বা শিল্পপতিদের বাড়ি ও অফিসে গণেশের মূর্তি দেখা যায়। বাস্তুশাস্ত্র মতে, বাড়িতে গণেশের মূর্তি রাখলে কাজের বাধা দূর হয়, নতুন সুযোগ আসে এবং উন্নতির পথ প্রশস্ত হয়।
মা লক্ষ্মীর মূর্তি: সম্পদ ও সমৃদ্ধির আধার
হিন্দু ধর্মে মা লক্ষ্মী হলেন ধন ও সমৃদ্ধির দেবী। বাস্তু মতে, বাড়িতে লক্ষ্মীর মূর্তি রাখা অত্যন্ত শুভ। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীর পাঁচালী পাঠ করলে সংসারে অর্থাভাব দূর হয় বলে বহু মানুষ বিশ্বাস করেন।
কচ্ছপের মূর্তি: স্থায়ী সমৃদ্ধির প্রতীক
বিষ্ণুর কূর্ম অবতার অর্থাৎ কচ্ছপ বাস্তুশাস্ত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বাস করা হয়, যেখানে নারায়ণ থাকেন, সেখানে লক্ষ্মীরও বাস। তাই ধাতুর তৈরি কচ্ছপের মূর্তি বাড়িতে রাখলে স্থায়ী আর্থিক উন্নতি ও লক্ষ্মীর আশীর্বাদ লাভ করা যায়।
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী প্রতিটি বাড়িতে পজিটিভ ও নেগেটিভ এনার্জির ভারসাম্য থাকে। নেগেটিভ শক্তি বাড়লে সংসারে অশান্তি, আর্থিক টানাপড়েন ও মানসিক চাপ দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়িতে নির্দিষ্ট কয়েকটি শুভ মূর্তি রাখলে পজিটিভ এনার্জি বৃদ্ধি পায় এবং মা লক্ষ্মীর কৃপায় ধীরে ধীরে ফিরতে পারে সুখ ও সমৃদ্ধি।













