খুচরো-বাইকারি দামে দ্বিগুণ ফারাক, আগুনদর আনাজে দিশেহারা টাস্কফোর্স

খুচরো-বাইকারি দামে দ্বিগুণ ফারাক, আগুনদর আনাজে দিশেহারা টাস্কফোর্স

Vegetable Price Hike: শীতের শুরুতেই কলকাতার বিভিন্ন বাজারে সবজি–দামের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। কোথায়—শিয়ালদহ কোলে মার্কেট থেকে কাঁকুড়গাছি ভিআইপি পর্যন্ত একই আনাজের দামে দ্বিগুণ ফারাক। কখন—গত কয়েকদিন ধরেই এই পরিস্থিতি। কে—ব্যবসায়ী, ক্রেতা এবং টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা। কী—রসুন, আদা, কাঁচালঙ্কা, বেগুন–সহ প্রায় সব আনাজের দাম লাগামছাড়া। কেন—যোগান কম, আবহাওয়ার ক্ষতি এবং খুচরো বাজারে অতিরিক্ত লাভের অজুহাতই কারণ হিসাবে উঠে আসছে।

খুচরো ও পাইকারি দামে অস্বাভাবিক ফারাক

কলকাতার বাজারে একেই রসুন পাইকারি দামে ৭০ টাকা। কিন্তু কাঁকুড়গাছি ভিআইপি মার্কেটে তা বিকোচ্ছে ১৫০ টাকায়। একই অবস্থা কাঁচা লঙ্কা, আদা, বেগুন, টম্যাটোর ক্ষেত্রেও। পাইকারি বাজারে ৪০ টাকার টম্যাটো খুচরো বাজারে ৭০ টাকা হয়ে যাচ্ছে—যার কোনও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা মিলছে না।টাস্কফোর্স নিয়মিত নজরদারি চালালেও দামের এই অস্বাভাবিক বিচ্যুতি রোধ করা যাচ্ছে না। ক্রেতাদের দাবি, মাঝখানে কোনও অঘোষিত ‘প্রফিট চেইন’ কাজ করছে।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি—‘কম পরিমাণ বিক্রি, তাই লাভ বেশি’

টাস্কফোর্সের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, আদা, লঙ্কা বা রসুন খুব কম পরিমাণে বিক্রি হয়। তাই প্রতি কেজিতে বেশি লাভ রাখতে হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—তাহলে টম্যাটোর দাম পাইকারি থেকে খুচরোতে ৩০ টাকা বাড়ছে কেন?এই যুক্তিকে গ্রহণযোগ্য বলছে না টাস্কফোর্সের আধিকারিকরাও। তাঁরা জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রেই বিক্রেতারা নিজেদের মতো করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

আবহাওয়ার প্রভাব ও যোগানের ঘাটতি

চাষিদের একাংশের দাবি, অতিবৃষ্টিতে এক দফা ফসল নষ্ট হওয়ায় যোগান কমে গিয়েছে। আবহাওয়া উন্নতি হতেই অনেক চাষি একসঙ্গে ফুলকপি লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফলে বাজারে ফুলকপির দাম কিছুদিন কম থাকলেও বর্তমানে আবার বাড়তে শুরু করেছে।বেগুন, শাক এবং শীতকালীন শাকসবজির দাম কেন বাড়ছে—সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। অনেকেই বলছেন, যোগান একসঙ্গে না আসায় দাম স্থিতিশীল হচ্ছে না।

টাস্কফোর্সের অভিযানেও মিলছে না সমাধান

বুধবার পাইকারি ও খুচরো দুই বাজারেই অভিযান চালায় রাজ্য সরকারের টাস্কফোর্স। বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়লেও দামের অস্বাভাবিক ফারাক নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।টাস্কফোর্স সদস্য রবীন্দ্রনাথ কোল বলেন, “বিক্রেতাদের কাছ থেকে যুক্তি জানতে চেয়েছিলাম। তারা বলেছে—কম বিক্রি হওয়া জিনিসে লাভ বেশি রাখেন। কিন্তু সবজি–দামের অন্যান্য ব্যাপারে তাঁদের উত্তর অস্পষ্ট।

কলকাতার বাজারে শীতের আনাজের দাম ফের আকাশছোঁয়া। পাইকারি মার্কেটে রসুন, আদা, লঙ্কা কম দামে মিললেও খুচরো বাজারে তার দাম দ্বিগুণেরও বেশি। টাস্কফোর্স নিয়মিত নজরদারি করলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের যুক্তি ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ ক্রেতারা।

Leave a comment