কলকাতার দুই হাসপাতালে দালাল চক্রে পুলিশের হানা, গ্রেপ্তার দু’জন

কলকাতার দুই হাসপাতালে দালাল চক্রে পুলিশের হানা, গ্রেপ্তার দু’জন

শুক্রবার রাতেই কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ SSKM ও কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে দুই ব্যক্তিকে দালাল চক্র পরিচালনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের নাম গোলাম রসুল ও সচিন রাউত। হাসপাতাল দালাল চক্র: অভিযোগ, তাঁরা অসহায় রোগীদের বিভ্রান্ত করে ব্যক্তিগত আর্থিক লাভ করতেন। দীর্ঘদিন ধরেই দুই হাসপাতালে দালালি নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল বলে পুলিশের সন্দেহ। ধৃতদের জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে চাইছেন, আর কোন কোন ব্যক্তি এই চক্রে যুক্ত।

দুই হাসপাতালে একযোগে পুলিশের গোয়েন্দা অভিযান

কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ শুক্রবার গভীর রাতে SSKM ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হানা দেয়। বহুদিন ধরে দালালদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ ও গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়।গোয়েন্দাদের দাবি, হাসপাতাল চত্বরেই ঘুরে বেড়িয়ে রোগীদের ভুল তথ্য দেওয়া, লাইনে সুবিধা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ইত্যাদি দেখিয়ে টাকা আদায় করত এই চক্র।

ধৃতদের পরিচয় ও প্রাথমিক তথ্য

গ্রেপ্তার হওয়া দু’জন হলেন গোলাম রসুল (৪৫), যাঁর বাড়ি বীরভূমের মারগ্রাম থানার শিলাগ্রাম গ্রামে; এবং সচিন রাউত (২৮), যিনি কলকাতার ললিত ব্যানার্জি স্ট্রিটের বাসিন্দা।পুলিশ তদন্ত: জানা যাচ্ছে, তাঁরা বিভিন্ন ওয়ার্ড, বিভাগ ও আউটডোরে রোগীদের ফাঁদে ফেলতেন এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদার বা ব্যক্তির কাছে পাঠিয়ে কমিশন নিতেন।

কীভাবে কাজ করত হাসপাতাল দালাল নেটওয়ার্ক?

পুলিশ সূত্রে খবর, এই নেটওয়ার্ক হাসপাতালের ভিতরে ঘুরে বেড়ানো কয়েকজন তথাকথিত ‘হেল্পার’ ও বাইরে থাকা এজেন্টদের সঙ্গে মিলে কাজ করত। রোগী বা পরিজনদের দ্রুত চিকিৎসা বা সুবিধা পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায় ছিল এদের প্রধান কাজ।বিশেষত গ্রামাঞ্চল বা দূরবর্তী জেলা থেকে আসা রোগীরা এই চক্রের মূল টার্গেট ছিলেন।

জেরায় কী কী তথ্য মিলতে পারে?

পুলিশ জানিয়েছে, গোলাম ও সচিনকে হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জেরা করা হবে। তাঁদের কাছে জানতে চাইবে— কোন কোন কর্মী, কামলারাজ বা বহিরাগত ব্যক্তি এই চক্রে সক্রিয়?গোয়েন্দাদের অনুমান, আরও বড় চক্র এর পিছনে কাজ করছে। তাই আরও কয়েকটি হাসপাতালে একই ধরনের নেটওয়ার্ক আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা SSKM ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ, তাঁরা রোগীদের ভুল পথে পরিচালিত করে অবৈধ আর্থিক সুবিধা নিতেন। পুলিশ ধৃতদের জেরা করে বৃহত্তর চক্রের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a comment