উত্তর ও দক্ষিণ বিহারের মধ্যে সড়ক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল বিক্রমশিলা সেতুর মেরামতের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ অপসারণ এবং নতুন কাঠামো স্থাপনের কাজে বিহার রাজ্য সেতু নির্মাণ নিগম দিল্লির মঙ্গলম সংস্থাকেও যুক্ত করেছে। এর ফলে মহারাষ্ট্রের ম্যাটে অ্যাসোসিয়েটস এবং দিল্লির মঙ্গলম সংস্থা যৌথভাবে সেতুর দুর্বল স্প্যান অপসারণের কাজ করবে। একই সঙ্গে প্রায় ২০০ টন ওজনের এবং প্রায় ২৪ মিটার দীর্ঘ স্টিল গার্ডার স্থাপনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সেতুটি নিরাপদে পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে মেরামতের বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।
বিক্রমশিলা সেতু ভাগলপুরকে নবগছিয়া, কাটিহার, পূর্ণিয়া এবং উত্তর বিহারের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করে। সেতুতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় প্রতিদিন যাতায়াতকারী মানুষ, পণ্যবাহী যান, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য যাত্রীদের বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মেরামতের অগ্রগতি এবং সেতুর নিরাপদ পুনরুদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিহার রাজ্য সেতু নির্মাণ নিগম মেরামতের কাজে গতি আনতে অতিরিক্ত একটি বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়েছে। মহারাষ্ট্রের ম্যাটে অ্যাসোসিয়েটস এবং দিল্লির মঙ্গলম সংস্থা যৌথভাবে সেতুর দুর্বল স্প্যান অপসারণের কাজে সহযোগিতা করবে। এতে কর্মস্থলের বিভিন্ন অংশে একযোগে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং সময়ের ব্যবহার আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কাজের গতি আবহাওয়া, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, ভারী যন্ত্রপাতির প্রাপ্যতা এবং প্রতিটি পর্যায়ের নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্তের ওপরও নির্ভর করবে।
সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ অপসারণে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। কংক্রিট ও স্ল্যাব নিয়ন্ত্রিতভাবে কাটার জন্য ডায়মন্ড ওয়্যার স প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাটার কাজ এগিয়ে নিতে ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে স্ল্যাবে প্রয়োজনীয় ছিদ্র তৈরি করা হচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, যাতে দুর্বল অংশ অপসারণের সময় সেতুর অবশিষ্ট কাঠামোর ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ না পড়ে। মেরামতের সময় উৎপন্ন ভারী ধ্বংসাবশেষও পরিকল্পিতভাবে সরানো হচ্ছে। ভাঙা কংক্রিট ও স্ল্যাবের টুকরো গঙ্গায় পড়া আটকাতে বার্জ বা বিশেষ মালবাহী নৌযানের মাধ্যমে সেগুলি নদীপথে বারারি এলাকায় এসপি সিংলার ইয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর ফলে কর্মস্থলে ধ্বংসাবশেষ জমে থাকার সমস্যা কমানো এবং নদীতে দূষণ রোধে সহায়তা মিলতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্গঠনের জন্য নতুন স্টিল গার্ডার প্রস্তুত করে সেতুতে স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। নবগছিয়া প্রান্তের দিকে বারারিতে অবস্থিত ইয়ার্ড থেকে ভারী ক্রেনের সাহায্যে গার্ডারের বিভিন্ন অংশ বার্জের মাধ্যমে সেতু পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে অংশগুলি জুড়ে নির্ধারিত মাপ ও কাঠামো অনুযায়ী গার্ডার তৈরি করা হবে।
প্রায় ২০০ টন ওজনের এবং প্রায় ২৪ মিটার দীর্ঘ এই স্টিল গার্ডার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এত ভারী কাঠামো উত্তোলন ও নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপনের জন্য বিশেষ সরঞ্জাম, প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং সমন্বয়ের প্রয়োজন।
স্টিল গার্ডার স্থাপনের প্রক্রিয়া পরিদর্শনে বিহার রাজ্য সেতু নির্মাণ নিগমের পরিকল্পনা ও প্রশাসন বিভাগের সচিব শশিভূষণ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। কর্মকর্তাদের মতে, এসপি সিংলা সংস্থার নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কাটার কাজ এবং গার্ডার সংযোজনের কাজ সমান্তরালভাবে চলছে। মেরামতের বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যবর্তী সময় কমানোই এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য। তবে প্রতিটি পর্যায় শেষ করার আগে কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত মান যাচাই করতে হবে।
বিক্রমশিলা সেতু পুনর্স্থাপনের ক্ষেত্রে মূল নকশা অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। সেতুটির মূল নির্মাণ করেছিল উত্তরপ্রদেশ সেতু নিগম। তাই দুর্বল অংশ অপসারণ এবং নতুন কাঠামো স্থাপনের সময় মূল নকশা ও ড্রয়িংয়ের প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন গার্ডার ও অন্যান্য কাঠামো কীভাবে স্থাপন করা হবে, তা নির্ধারণে সহায়তা মিলবে, যাতে সেতুর অন্যান্য অংশের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
পুরনো সেতুর কাঠামোগত অবস্থা বিবেচনায় রেখে ধাপে ধাপে সতর্কতার সঙ্গে মেরামতের কাজ সম্পন্ন করা প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত স্ল্যাব অপসারণের পর নতুন কাঠামো সঠিক স্তরে স্থাপন, প্রয়োজনীয় কংক্রিটের কাজ সম্পন্ন এবং নির্ধারিত দৃঢ়তা অর্জনের পর প্রযুক্তিগত পরীক্ষা করা জরুরি। যান চলাচল পুনরায় শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নিশ্চিত করতে হবে যে মেরামত করা অংশটি নির্ধারিত ভারবহন ক্ষমতা ও নিরাপত্তার মান পূরণ করছে।
বিক্রমশিলা সেতু বন্ধ থাকায় ভাগলপুর ও নবগছিয়ার মধ্যে যাতায়াতকারী মানুষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিকল্প পথে যাতায়াতের সময় বাড়তে পারে এবং পণ্য পরিবহণেও প্রভাব পড়তে পারে। গঙ্গাপথে নৌকা পরিষেবা ও অন্যান্য বিকল্প পরিবহণের ওপর নির্ভরশীল যাত্রীদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং পরিষেবার প্রাপ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ।
মেরামতের সময় প্রশাসনের সামনে যান চলাচল পরিচালনা, যাত্রীদের সুবিধা এবং নির্মাণকাজের নিরাপদ পরিচালনার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অতিরিক্ত সংস্থাকে কাজে যুক্ত করা, দুর্বল স্প্যান অপসারণের কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং ভারী স্টিল গার্ডার স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সেতুর মেরামতের বিভিন্ন পর্যায় একযোগে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত অংশ অপসারণ, নতুন গার্ডার স্থাপন এবং স্ল্যাব তৈরির কাজ কত দ্রুত সম্পন্ন হয়, তার ওপর মেরামতের অগ্রগতি নির্ভর করবে। তবে সেতুতে নিরাপদে যান চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়টি চূড়ান্ত প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।












