লোকসংগীতের আসরে গান গাইতে এসে অপমান, উত্তেজনা এবং বাধার মুখে পড়লেন এক জনপ্রিয় শিল্পী। নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে লালন উৎসবে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল শিল্পীদের স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির পরিসর নিয়ে। ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এনে ফেসবুকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী মধুবন্তী মুখোপাধ্যায়।
শুরুটা ছিল স্বাভাবিক, হঠাৎ বদলে গেল পরিস্থিতি
মধুবন্তীর অভিযোগ, কৃষ্ণগঞ্জের লালন উৎসবে আয়োজক কমিটির সঙ্গে কথা বলেই নির্দিষ্ট ধারার লোকসংগীত পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্যান্ডের সঙ্গে মঞ্চে উঠে গান শুরু করতেই দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ছিল ইতিবাচক এবং মনোযোগী।
একটি গানের পরেই চরম অশান্তি
শিল্পীর দাবি, একটি নির্দিষ্ট গান শেষ হতেই আচমকা পরিস্থিতি বদলে যায়। হঠাৎ এক ব্যক্তি মঞ্চে উঠে এসে তাঁর হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেন এবং প্রকাশ্যে আপত্তি তোলেন গান নির্বাচন নিয়ে।
‘এই জাত-পাতের গান শুনব না’—অভিযোগ শিল্পীর
মধুবন্তীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি প্রকাশ্যে বলেন—“এই জাত-পাতের গান শুনব না, কোনও ধর্মের গানও নয়। অন্য গান গাইতে হবে।” এই মন্তব্যে মুহূর্তের মধ্যে অনুষ্ঠানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আয়োজকদের হস্তক্ষেপে সামাল পরিস্থিতি
ঘটনার পর দ্রুত মঞ্চে উঠে পরিস্থিতি সামাল দেন আয়োজক কমিটির সদস্যরা। তাঁরা স্পষ্ট জানান, শিল্পী তাঁর পছন্দ অনুযায়ী গান পরিবেশন করবেন। যাঁদের আপত্তি রয়েছে, তাঁরা চাইলে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে পারেন।
বড় অঘটন এড়ানো গেল অল্পের জন্য
মধুবন্তী মুখোপাধ্যায় জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণ শেষ পর্যন্ত মানবিক সীমার মধ্যেই থাকায় বড় কোনও অঘটন ঘটেনি। তবে শিল্পীদের বারবার জাত-পাত ও ধর্মের প্রসঙ্গ টেনে হেনস্থার প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
শিল্পীর কণ্ঠে আশঙ্কা
ভিডিও বার্তায় শিল্পী বলেন, “গান নিজেই অনুভূতির ভাষা। তাকে আলাদা করে কোনও শ্রেণীতে ভাগ করার প্রয়োজন নেই।” তাঁর আশঙ্কা, আজ যদি এই আপত্তি কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, ভবিষ্যতে তা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত লালন উৎসবে গান পরিবেশন করতে গিয়ে প্রকাশ্যে হেনস্থার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুললেন সঙ্গীতশিল্পী মধুবন্তী মুখোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তায় ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে শিল্পীদের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।










