পুজোর মরশুমে ঢাকে কাঠি পড়ার আগে বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হয়ে যায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ আরাধনা। গ্যারাজ, কারখানা, দোকান, অফিস থেকে শুরু করে বাড়ির নানা যন্ত্রপাতি—সবকিছুর পুজো হয় দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার। ২০২৬ সালে কোন দিনে পড়েছে বিশ্বকর্মা পুজো? কখন রয়েছে শুভযোগ? পঞ্জিকা অনুযায়ী জেনে নিন সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট।
কবে বিশ্বকর্মা পুজো ২০২৬?
২০২৬ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার পালিত হবে বিশ্বকর্মা পুজো। বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে দিনটি ৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ সংক্রান্তির দিন বিশ্বকর্মা পুজো পালনের রীতি রয়েছে। অন্যান্য বহু পুজোর মতো শুধুমাত্র চন্দ্রের তিথির উপর এই পুজোর দিন নির্ভর করে না। সূর্যের রাশি পরিবর্তনের সঙ্গেও বিশ্বকর্মা পুজোর তারিখের সম্পর্ক রয়েছে।
কেন এই পুজো এত গুরুত্বপূর্ণ?
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে বিশ্বকর্মা হলেন দেবশিল্পী। স্থাপত্য, নির্মাণ, শিল্পকর্ম ও সৃষ্টির সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে। তাই কারখানা, ওয়ার্কশপ, নির্মাণক্ষেত্র, গ্যারাজ কিংবা বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতির সঙ্গে যুক্ত মানুষজন বিশেষভাবে এই দিনে বিশ্বকর্মার আরাধনা করেন।অনেক বাড়িতেও গাড়ি, মোটরবাইক, সাইকেল, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কিংবা কাজের নানা যন্ত্র পরিষ্কার করে পুজো করার রীতি রয়েছে।
১৮ সেপ্টেম্বর অমৃতযোগের সময়
পঞ্জিকা অনুযায়ী, বিশ্বকর্মা পুজোর দিন একাধিক সময়ে অমৃতযোগ রয়েছে। দেওয়া তথ্য অনুসারে সময়গুলি হল—
সকাল ৭টা ৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে
সকাল ৭টা ৫২ মিনিট ৮ সেকেন্ড থেকে ১০টা ১৮ মিনিটের মধ্যে
দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিট ৬ সেকেন্ড থেকে ২টো ২১ মিনিট ৬ সেকেন্ডের মধ্যে
বিকেল ৩টে ৫৯ মিনিট ১৪ সেকেন্ড থেকে ৫টা ৩৫ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের মধ্যে
সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিট ১৪ সেকেন্ড থেকে রাত ৮টা ৪৭ মিনিট ১০ সেকেন্ড পর্যন্ত
এই সময়গুলির মধ্যে স্থানীয় পঞ্জিকা ও পুরোহিতের পরামর্শ অনুযায়ী পুজোর সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে।
মাহেন্দ্রযোগ কখন?
১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজোর দিন মাহেন্দ্রযোগও রয়েছে। পঞ্জিকা অনুযায়ী—
রাত ১০টা ২২ মিনিট ৫২ সেকেন্ড থেকে ১১টা ৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের মধ্যে
রাত ৩টে ৫১ মিনিট ৩০ সেকেন্ড থেকে ভোর ৫টা ২৬ মিনিট ২৮ সেকেন্ড পর্যন্ত
শুভযোগের সময় নিয়ে আচার পালনের ক্ষেত্রে স্থানীয় পঞ্জিকা এবং পুরোহিতের পরামর্শ অনুসরণ করাই ভালো।
একই দিনে রয়েছে আরও কিছু ধর্মীয় অনুষ্ঠান
১৮ সেপ্টেম্বর শুধু বিশ্বকর্মা পুজো নয়, বাংলার বিভিন্ন জায়গায় আরও কিছু ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উৎসবের সমাপ্তিও হবে।
মা মনসার ভাসান
এই দিনেই শ্রীশ্রী মনসাদেবী ও অষ্টনাগ পুজোর সমাপ্তির সঙ্গে মা মনসার ভাসান দেওয়ার রীতি রয়েছে।
ভদ্রাবতী পুজোর সমাপ্তি
পঞ্জিকা অনুযায়ী, একই দিনে ভদ্রাবতী পুজোও শেষ হবে।
দেউলিয়াগ্রামে ধর্মরাজ পুজো ও মেলা
কোলাঘাটের কাছে দেউলিয়াগ্রামে শ্রীশ্রী ধর্মরাজ পুজো উপলক্ষে বসবে আনন্দ মেলা। এই উপলক্ষে টানা সাত দিন ধরে উৎসব চলার কথা রয়েছে।
বিশ্বকর্মা পুজোয় কী করা হয়?
বিশ্বকর্মা পুজোর আগে কাজের জায়গা, যন্ত্রপাতি ও যানবাহন পরিষ্কার করার রীতি রয়েছে। কারখানায় মেশিন, দোকানে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, গ্যারাজে গাড়ি কিংবা বাড়িতে সাইকেল-মোটরবাইক—অনেকেই নিজেদের কাজের সঙ্গে যুক্ত জিনিসপত্র পুজোর জন্য সাজিয়ে রাখেন।ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি এই দিনটির মধ্যে কাজের সরঞ্জামের প্রতি যত্ন ও সম্মান জানানোর বার্তাও রয়েছে। যে যন্ত্র বা উপকরণ মানুষের জীবিকা ও দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে জড়িত, সেটির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের কথাও এই উৎসব মনে করিয়ে দেয়।
পুজোর প্রস্তুতি নেবেন কীভাবে?
বিশ্বকর্মা পুজোর আগে যন্ত্রপাতি ও গাড়ি পরিষ্কার করে নেওয়া যেতে পারে। পুজোর জায়গাটি পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক বা ভারী যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি।বিশেষ করে কারখানা বা ওয়ার্কশপে পুজোর আয়োজন করলে মেশিনের চারপাশে ভিড় না করা, বৈদ্যুতিক সংযোগ নিরাপদ রাখা এবং দাহ্য পদার্থ থেকে প্রদীপ বা ধূপ দূরে রাখার মতো বিষয়গুলি অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত।
Vishwakarma Puja 2026: চলতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার পালিত হবে বিশ্বকর্মা পুজো। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিনটি ৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। সূর্যের কন্যা রাশিতে প্রবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত এই পুজোর রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর একাধিক অমৃতযোগ ও মাহেন্দ্রযোগ রয়েছে। রইল পুজোর সম্পূর্ণ সময়সূচি।








