ভোটার লিস্ট বিতর্ক: কমিশনের পাল্টা জবাব, দায় দিল জেলা প্রশাসনকে

তৃণমূলের অভিযোগ, রাজ্যের বহু কেন্দ্রে ভোটার তালিকা থেকে নাম গায়েব। কমিশন জানাল, দায় জেলা প্রশাসনের। দুই জেলার রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।

Voter List Controversy in Bengal: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে নাম উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে। বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ তোলে, উত্তরবঙ্গের মাথাভাঙা, নাটাবাড়ি থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের অশোকনগর ও বসিরহাট পর্যন্ত বহু কেন্দ্রে ভোটার তালিকা থেকে সারি ধরে নাম মুছে ফেলা হয়েছে। পাল্টা জবাবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা তৈরির দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের এবং এই বিষয়ে কোচবিহার ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।

তৃণমূলের অভিযোগ, ‘চুপি চুপি ভোট কারচুপি’ চলছে

তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় “Silent Invisible Rigging” বা ‘চুপি চুপি ভোট কারচুপি’ চলছে রাজ্যে। তাঁদের দাবি, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হচ্ছে।দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিশেষভাবে বাংলাভাষী ভোটারদের নামই কৌশলে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি সতর্ক করেন, এইভাবে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হলে তৃণমূল সরাসরি দিল্লিতে নির্বাচন সদনের দরজায় যাবে।

কমিশনের জবাব: “দায় জেলা প্রশাসনের”

তৃণমূলের অভিযোগের জবাবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল এক্স (X) হ্যান্ডেলে লেখেন, “ভোটার তালিকা প্রস্তুতির দায় জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের। তাঁরাই তালিকা রাজ্য দফতরে পাঠান।”তিনি আরও বলেন, “১৯৬০ সালের আইন অনুযায়ী জেলার নির্বাচনী আধিকারিকই ভোটার লিস্ট তৈরি করেন। রাজ্য দফতর শুধু সংকলিত কপি গ্রহণ করে।” কমিশনের আশ্বাস— দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হবে এবং ভোটারদের স্বার্থ রক্ষা করা হবে।

তৃণমূলের পাল্টা প্রশ্ন: “দায় এড়াচ্ছে কমিশন?

তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, কমিশন পুরোনো কৌশলেই দায় ঝেড়ে ফেলছে। তাঁদের মতে, বিহারের ভোটার লিস্ট বিতর্কের সময়েও একইভাবে জেলাশাসকদের ঘাড়ে দোষ চাপানো হয়েছিল।তৃণমূলের বক্তব্য, “যখন কমিশন পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া তদারকি করে, তখন নাম মুছে যাওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসন একাই দায়ী— এ দাবি মানা যায় না।”

তদন্তের নির্দেশ, রিপোর্ট চাইল কমিশন

কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের রিপোর্ট হাতে এলে তা খতিয়ে দেখা হবে। কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এছাড়া, সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে আবেদন— যদি কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে থাকে, তাহলে দ্রুত স্থানীয় বুথ লেভেল অফিসার বা জেলা নির্বাচন দফতরে যোগাযোগ করুন।

রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে নাম গায়েব হওয়ার অভিযোগে নতুন করে চাঞ্চল্য। তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, একাধিক কেন্দ্রে বৈধ ভোটারদের নাম মুছে ফেলা হচ্ছে পরিকল্পনা করে। কমিশন জবাবে জানিয়েছে, ভোটার তালিকা প্রস্তুতির দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। ইতিমধ্যে দুই জেলার রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।

Leave a comment