শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফাঁসিদেওয়া বিধানসভা কেন্দ্র ২০২৬ সালের নির্বাচনে যেন নতুন ইতিহাস লিখতে চলেছে। যেখানে নারী প্রার্থীদের আধিপত্যে তৈরি হয়েছে এক অভিনব রাজনৈতিক সমীকরণ। মাঠে যেমন লড়াই, তেমনই মানুষের জীবনের বাস্তব সমস্যাই হয়ে উঠেছে প্রচারের মূল সুর।
নারী শক্তির দাপটেই ভোটের রং বদল
এই কেন্দ্রে মোট ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনই মহিলা—যা রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বিরল ঘটনা। তৃণমূল, কংগ্রেস, বাম, এসইউসিআই—প্রায় সব বড় দলই নারী মুখকে সামনে রেখে লড়াইয়ে নেমেছে। ফলে এই কেন্দ্র এখন কার্যত “মহিলা মহারণ”-এর প্রতীক হয়ে উঠেছে।
চা-বাগান থেকে মাঠে নেমে প্রচার
দার্জিলিং লোকসভা এলাকার অন্তর্গত এই অঞ্চলে প্রচারের ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। চা-বাগানের সবুজে শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করছেন প্রার্থীরা, আবার কোথাও সাধারণ মানুষের বাড়িতে বসে খাওয়া-দাওয়া করছেন। এতে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।
পুরনো জয় বনাম নতুন চ্যালেঞ্জ
২০২১ সালে বিজেপির দুর্গা মুর্মু এই কেন্দ্র দখল করেছিলেন বড় ব্যবধানে। তবে এবার তাঁর সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক কঠিন। একাধিক নারী প্রার্থীর উপস্থিতি এবং ইস্যুভিত্তিক প্রচার এই লড়াইকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইস্যুই আসল খেলোয়াড়
এই নির্বাচনে ব্যক্তিত্বের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে ইস্যু—
তপশিলি জাতির উন্নয়ন
চা-বাগান শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার
কর্মসংস্থানের দাবি
এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করবে ভোটারদের মনোভাব। বিশেষ করে চা-বাগান এলাকায় শ্রমিকদের জীবনযাত্রা বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে।
প্রতিটি ভোটেই বদলাতে পারে ফল
৮ জন প্রার্থীর এই বহুমুখী লড়াইয়ে ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে সামান্য ব্যবধানেই নির্ধারিত হতে পারে জয়-পরাজয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানে “ক্লোজ ফাইট” হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
ফাঁসিদেওয়া বিধানসভা কেন্দ্রে এবারের নির্বাচন একেবারেই ব্যতিক্রমী। ৮ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনই নারী। তপশিলি উন্নয়ন, চা-বাগান শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মসংস্থান—এই তিন ইস্যুতে জমে উঠেছে প্রচার। প্রতিটি ভোটই এখানে নির্ধারণ করতে পারে ফলাফল।











