পশ্চিমবঙ্গের CAG রিপোর্টে কোভিড-১৯ অক্সিজেন প্ল্যান্ট, ভেন্টিলেটর ও তহবিল ব্যবহারে একাধিক ঘাটতির উল্লেখ

ন্টিলেটর, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর এবং আর্থিক সহায়তার ব্যবহারে একাধিক প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত ঘাটতির উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং রাজ্য সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় উপস্থাপিত ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহালেখা পরীক্ষক (CAG)-এর ২০২৪ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ব্যবহৃত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং আর্থিক সহায়তার ব্যবহারে একাধিক ত্রুটির উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কেয়ার্স (PM CARES) তহবিল এবং কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR)-এর আওতায় স্থাপিত একাধিক পিএসএ (Pressure Swing Adsorption) অক্সিজেন উৎপাদন কেন্দ্র হয় চালু করা হয়নি, নয়তো পরে অচল অবস্থায় পড়ে ছিল।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, একাধিক হাসপাতালে ভেন্টিলেটর এবং অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি। কোভিড-১৯ মহামারির সময় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করার জন্য উপলব্ধ সম্পদ ও আর্থিক সহায়তার ব্যবহারের পর্যালোচনায় নিরীক্ষায় প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত একাধিক ঘাটতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

২০২৪ সালের CAG রিপোর্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় উপস্থাপিত হয়েছে। এতে কোভিড-১৯ ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত সম্পদের ব্যবহারের বিস্তারিত নিরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারির সময় স্বাস্থ্য পরিষেবা শক্তিশালী করার জন্য সরবরাহ করা একাধিক সম্পদের প্রত্যাশিত মাত্রায় ব্যবহার সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিরোধীরা রাজ্য সরকারের কার্যপ্রণালী নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, PM CARES তহবিল এবং CSR-এর মাধ্যমে রাজ্যে মোট ৭৫টি পিএসএ অক্সিজেন উৎপাদন কেন্দ্র সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এর মধ্যে মাত্র ৩২টি কেন্দ্র কার্যকর অবস্থায় ছিল। বাকি ৪৩টি কেন্দ্র হয় স্থাপনের পর চালু করা হয়নি, নয়তো প্রযুক্তিগত ও রক্ষণাবেক্ষণজনিত সমস্যার কারণে বন্ধ ছিল। CAG জানিয়েছে, অক্সিজেনের প্রাপ্যতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে স্থাপিত এই কেন্দ্রগুলির পূর্ণ সুবিধা স্বাস্থ্যব্যবস্থা পায়নি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যের দুটি সরকারি হাসপাতালে PM CARES-এর আওতায় সরবরাহ করা ভেন্টিলেটর এবং অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর ব্যবহার করা হচ্ছিল না। নিরীক্ষা অনুযায়ী, মহামারির মতো জরুরি পরিস্থিতিতে সরবরাহ করা গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জামের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি। এর ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রস্তুতি এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

CAG রিপোর্ট অনুযায়ী, কোভিড-১৯ মোকাবিলার জন্য বরাদ্দ আর্থিক সহায়তারও সম্পূর্ণ ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Emergency COVID Response Package (ECRP)-2-এর আওতায় বরাদ্দ মোট অর্থের প্রায় ৬৫ শতাংশ, অর্থাৎ ৬৫৯.২৮ কোটি টাকা, ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত ব্যয় করা হয়নি। এছাড়া কোভিড ব্যবস্থাপনার জন্য রাজ্যকে দেওয়া ৪৬২.০৫ কোটি টাকার স্টেট কোভিড জয়েন্ট ফান্ডও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবহার করা যায়নি। স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ আর্থিক সম্পদের ব্যবহারে বিলম্ব এবং প্রশাসনিক ঘাটতির উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় কেন্দ্র সরকার PM CARES তহবিলের মাধ্যমে রাজ্যগুলিকে ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর এবং পিএসএ অক্সিজেন উৎপাদন কেন্দ্র সরবরাহ করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল হাসপাতালগুলিতে অক্সিজেন সরবরাহ জোরদার করা এবং গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে এই সম্পদগুলির পূর্ণ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি। এর ফলে মহামারির সময় স্বাস্থ্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিচালনার ক্ষেত্রে তদারকির ঘাটতি ছিল। সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং পরিচালনাগত ব্যবস্থার অভাবে বহু সম্পদ অচল অবস্থায় ছিল।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। বিরোধীরা রিপোর্টের উল্লেখ করে কোভিড ব্যবস্থাপনায় কথিত গাফিলতি এবং সম্পদের ব্যবহারে প্রশ্ন তুলেছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বিধানসভা এবং অন্যান্য মঞ্চে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

Leave a comment