পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবর! বকেয়া ডিআর মেটাতে নতুন নির্দেশিকা রাজ্যের, টাকা পাবেন মৃত কর্মীর উত্তরাধিকারীরাও

পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০০৮-২০১৫ সালের বকেয়া ডিআর প্রদানের নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। পেনশনভোগীদের পাশাপাশি মৃত কর্মী ও পেনশনভোগীদের মনোনীত ব্যক্তি বা আইনগত উত্তরাধিকারীরাও এই অর্থ পাবেন।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজ্যের পেনশনভোগীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসরণ করে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিআর) প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্নের অর্থ দফতর। এর ফলে ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিআর পাওয়ার ক্ষেত্রে বহু জটিলতার অবসান ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বকেয়া ডিআর মেটাতে শুরু হল আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া

অর্থ দফতরের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, যোগ্য রাজ্য সরকারি পেনশনভোগী এবং পারিবারিক পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিআর দ্রুত প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। AICPI সূচকের ভিত্তিতে ১০০ শতাংশ নিরপেক্ষকরণ ধরে বকেয়া অর্থের হিসাব নির্ধারণ করা হবে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পেনশনভোগীর অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা পড়া শুরু হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর রাজ্যের পদক্ষেপ

দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য সরকার বকেয়া ডিআর মেটানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চলতি বছরের ২৩ মার্চ জারি হওয়া আর্থিক নির্দেশিকার ভিত্তিতেই এই অর্থপ্রদান করা হবে। পরবর্তীকালে হিসাবের কোনও ত্রুটি ধরা পড়লে তা সমন্বয় করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

মৃত পেনশনভোগীদের পরিবারও পাবে সুবিধা

নতুন নির্দেশিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, মৃত কর্মী বা পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও বকেয়া ডিআর প্রদানের পথ পরিষ্কার করা হয়েছে। যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মনোনীত ব্যক্তির নাম সরকারি নথিতে নথিভুক্ত থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তির কাছেই অর্থ পৌঁছে যাবে। এর ফলে বহু পরিবারের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মনোনীত ব্যক্তি না থাকলে কী হবে?

অনেক ক্ষেত্রেই পুরনো নথিতে মনোনীত ব্যক্তির তথ্য পাওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতিতে আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। সরকারি যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর তাঁদের হাতে বকেয়া ডিআর প্রদান করা হবে। অর্থ দফতর এই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও দ্রুত করার উপর জোর দিয়েছে।

পুরনো তথ্য ডিজিটালাইজেশনের কাজও শুরু

রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে কর্মরত বহু সরকারি কর্মচারীর চাকরিসংক্রান্ত তথ্য এখনও সম্পূর্ণ ডিজিটাল রেকর্ডে নেই। তাই সেই তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করার জন্য পৃথক পোর্টাল তৈরির কাজ চলছে। এর ফলে বকেয়া ডিআর সংক্রান্ত হিসাব নির্ধারণে আরও সুবিধা হবে।

ডিএ-সংক্রান্ত আরও সিদ্ধান্তের জল্পনা

সরকারি সূত্রে খবর, বিভিন্ন অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবহণ, পৌরসভা, পঞ্চায়েত এবং অন্যান্য দফতরের প্রতিনিধিদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রস্তুতিও চলছে। সেই বৈঠকে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ডিএ-সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DR) প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শুধু জীবিত পেনশনভোগীরাই নন, মৃত কর্মী ও পেনশনভোগীদের মনোনীত ব্যক্তি বা আইনগত উত্তরাধিকারীরাও এই বকেয়া অর্থ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

Leave a comment