শীতের নরম রোদ, রাস্তার ধারে মাটির গন্ধ আর সাদা চাদরের উপর সারি সারি রঙিন শিল্পকর্ম—এই দৃশ্য এখন দাসপুরের পরিচিত ছবি। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার এই এলাকায় শীত এলেই ফুটপাথে বসে পড়েন ভ্রাম্যমান শিল্পী প্রীতম ঘোষ। শহরের কোলাহল থেকে দূরে, রাস্তাই তাঁর কর্মস্থল, শিল্পই তাঁর জীবিকা।

ফুটপাথেই শিল্পের ঠিকানা
সারা বছর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে কাজ করলেও শীত এলেই দাসপুর হয়ে ওঠে প্রীতমের প্রধান ভরসা। রাস্তার ধারে ফুটপাথ জুড়ে সাদা চাদর পেতে সাজানো থাকে তাঁর হাতে গড়া শিল্পকর্ম—রঙিন পাখি, লম্বা পা-সরু গলার হরিণের মডেল। পথচলতি মানুষ থমকে দাঁড়ান, শিশুরা মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে সেই খেলনাগুলোর দিকে।
মাটি, রং আর কল্পনার মেলবন্ধন
প্রতিটি পাখি কিংবা হরিণ শুধুই খেলনা নয়, তা শিল্পীর কল্পনার ফসল। মাটি আর রঙে প্রাণ পায় প্রতিটি অবয়ব। চোখের সামনেই রংতুলি হাতে নতুন নতুন মডেল তৈরি করতে দেখা যায় প্রীতমকে।
সংসারের হিসেব শিল্পের দামে
প্রীতম জানান, এক জোড়া হরিণ বিক্রি হয় প্রায় আড়াইশো টাকায়, আর রঙিন পাখির জোড়া ১৬০ টাকায়। দিনের বিক্রিতেই চলে সংসার। শীতকালই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়, কারণ এই সময়েই বিক্রি তুলনামূলক বেশি হয়। তাই প্রতিদিনই নতুন আশায় বাজার বসান তিনি।

চ্যালেঞ্জের শেষ নেই
ফুটপাথে বসে কাজ করার অসুবিধে কম নয়। ধুলোবালি, ঠান্ডা হাওয়া, পুলিশের নজর, অনিশ্চিত বিক্রি—সবই নিত্যসঙ্গী। তবু মানুষের আগ্রহই তাঁদের এগিয়ে চলার শক্তি। নিজের হাতে তৈরি শিল্পের চাহিদা এখনও যে কমেনি, সেটাই প্রীতমের সবচেয়ে বড় ভরসা।
শীতের বিকেলে শিল্প আর জীবনের গল্প
কৃষ্ণনগর থেকে এসে দাসপুরে বসে কাজ করেন প্রীতম ঘোষ। শীতের বিকেলের রোদ, রাস্তার ধারে মাটির গন্ধ আর ক্রেতাদের গল্প মিলেমিশে তৈরি হয় এক আলাদা পরিবেশ—যেখানে শিল্প মানেই জীবিকা, আর প্রতিদিনের সংগ্রামই বাস্তবতা।
শীত পড়লেই পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের ফুটপাথ বদলে যায় এক রঙিন শিল্পভূমিতে। ভ্রাম্যমান শিল্পী প্রীতম ঘোষ নিজের হাতে তৈরি মাটির পাখি ও হরিণের মডেল সাজিয়ে বসেন রাস্তায়। প্রতিকূলতার মাঝেও মানুষের আগ্রহে আজও বেঁচে আছে এই লোকশিল্প।













