শীতের শুরুতেই বায়ুদূষণের দাপটে নাজেহাল জনজীবন। দিল্লি বা কলকাতার ছবি যেন এবার হুবহু ধরা পড়ছে বাংলার জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলেও। নদিয়ার কৃষ্ণনগর-সহ আশপাশের এলাকায় ধুলোবালির আধিক্যে বেড়ে চলেছে অ্যালার্জি, শুকনো কাশি, চোখের জ্বালা ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা।
মহানগর ছাড়িয়ে গ্রামেও ধুলোর দাপট
চিকিৎসক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এবছর ধুলোর সমস্যা শুধু বড় শহরেই সীমাবদ্ধ নেই। রাস্তার সংস্কার কাজ, যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়া এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে গ্রাম ও মফঃস্বল এলাকাতেও বাতাসে ভাসছে সূক্ষ্ম ধুলিকণা।

ফুসফুসে ঢুকছে অদৃশ্য শত্রু
এ প্রসঙ্গে কৃষ্ণনগরের পরিচিত জেনারেল ফিজিশিয়ান ডা. সুভাষ মুখোপাধ্যায় জানান, বাতাসে ভাসমান এই সূক্ষ্ম ধুলিকণা সহজেই নাক ও ফুসফুসে প্রবেশ করছে। এর ফলেই বাড়ছে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, অ্যালার্জি ও হাঁপানির উপসর্গ।
সবচেয়ে ঝুঁকিতে কারা?
চিকিৎসকের মতে, শিশু, প্রবীণ নাগরিক এবং যাঁরা আগে থেকেই হাঁপানি বা অ্যালার্জিতে ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি। বর্তমানে বহু রোগী নাক বন্ধ, ঘন ঘন হাঁচি, শুকনো কাশি এবং শ্বাস নিতে কষ্টের অভিযোগ নিয়ে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
ধুলোজনিত অ্যালার্জি থেকে বাঁচতে কী করবেন?
ডা. মুখোপাধ্যায় ধুলোজনিত অ্যালার্জি এড়াতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন—
বাইরে বেরোলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন
বাড়ি ফিরে নাক ও মুখ ভালো করে ধুয়ে নিন
ঘরের ভিতরে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
জানালা-দরজা বন্ধ রেখে ধুলো ঢোকা কমান
ধূমপান সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন

জল ও খাবারের দিকেও নজর জরুরি
চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে অ্যালার্জির প্রভাব অনেকটাই কমে।
অবহেলা নয়, দ্রুত চিকিৎসাই নিরাপত্তা
চিকিৎসকের মতে, সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেও অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দাবি, প্রশাসনের তরফ থেকেও ধুলো নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
দিল্লি ও কলকাতার মতো মহানগরের পাশাপাশি বাংলার গ্রাম ও মফঃস্বল এলাকাতেও বাড়ছে ধুলোজনিত বায়ুদূষণ। নদিয়ার কৃষ্ণনগর-সহ একাধিক অঞ্চলে অ্যালার্জি, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেড়েছে। কীভাবে সতর্ক থাকবেন, জানালেন চিকিৎসক।










