২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া 'থ্রি ইডিয়টস' আজও ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। ছবির সবচেয়ে স্মরণীয় চরিত্র র্যাঞ্চো, যার আসল পরিচয় ছিল ফুংসুখ ওয়াংডু। এতদিন ধরে এই চরিত্রকে লাদাখের শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলেও, নির্মাতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে—র্যাঞ্চোর গল্পের পেছনে রয়েছে একাধিক বাস্তব মানুষের অভিজ্ঞতা ও জীবনের নানা ঘটনা।

সোনম ওয়াংচুক কি সত্যিই র্যাঞ্চোর অনুপ্রেরণা?
ছবি মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের বড় অংশ বিশ্বাস করতেন, র্যাঞ্চো চরিত্রটি সোনম ওয়াংচুকের জীবন অবলম্বনে তৈরি। কারণ, শিক্ষা নিয়ে তাঁর অভিনব চিন্তাভাবনা, উদ্ভাবনী কাজ এবং লাদাখের সঙ্গে সংযোগ এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছিল।তবে সোনম ওয়াংচুক একাধিকবার স্পষ্ট করেছেন, 'থ্রি ইডিয়টস' তাঁর জীবনের বায়োপিক নয়। তাঁর মতে, কিছু ভাবনা বা ব্যক্তিত্বের মিল থাকলেও পুরো চরিত্রটি তাঁর জীবন থেকে নেওয়া হয়নি।
রাজকুমার হিরানির মুখে র্যাঞ্চোর আসল গল্প
পরিচালক রাজকুমার হিরানি এক সাক্ষাৎকারে জানান, র্যাঞ্চো চরিত্রের মূল অনুপ্রেরণা ছিলেন FTII (Film and Television Institute of India)-এর এক ছাত্র।গল্প অনুযায়ী, এক তরুণ নিজে ভর্তি হতে না পেরে বন্ধুর পরিচয়ে তিন বছর চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর তাঁকে যখন বলা হয়, তিনি কোনও ডিগ্রি পাবেন না, তখন তাঁর উত্তর ছিল—"আমি সার্টিফিকেট নিতে আসিনি, আমি শিখতে এসেছিলাম।"এই ঘটনাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে অন্যভাবে দেখার ভাবনা তৈরি করে, যা পরে র্যাঞ্চো চরিত্রের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে।

বিধু বিনোদ চোপড়ার দাবি আরও চমকপ্রদ
ছবির প্রযোজক বিধু বিনোদ চোপড়া পরে জানান, র্যাঞ্চোর অনেক বৈশিষ্ট্য তাঁর নিজের জীবন থেকেও নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন—
পরিবার তাঁকে ডাক্তার বানাতে চেয়েছিল।
কিন্তু তিনি গোপনে চলচ্চিত্র নির্মাতা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।
কলেজ জীবনে নিয়মিত ক্লাসও করতেন না।
পরে চলচ্চিত্র জগতে সাফল্য পাওয়ার পরই পরিবার তাঁর প্রকৃত ইচ্ছার কথা জানতে পারে।
এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও চরিত্র নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে দাবি করেন তিনি।
'ফুংসুখ ওয়াংডু' নামটির উৎস কোথায়?
২০২১ সালে এক অনুষ্ঠানে বিধু বিনোদ চোপড়া জানান, ছবির শেষের চমক 'ফুংসুখ ওয়াংডু' নামটিও বাস্তব জীবন থেকেই নেওয়া।FTII-তে তাঁর এক সহপাঠীর নাম ছিল ফুন্টসোক, যাঁকে বন্ধুরা ডাকতেন 'ফুন্টসোক লাদাখ' নামে। সেই নাম থেকেই সামান্য পরিবর্তন করে ছবিতে 'ফুংসুখ ওয়াংডু' নামটি ব্যবহার করা হয়।

চেতন ভগতের উপন্যাসের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ
থ্রি ইডিয়টস' নির্মিত হয়েছিল চেতন ভগতের জনপ্রিয় উপন্যাস Five Point Someone অবলম্বনে। যদিও ছবি মুক্তির পর লেখক দাবি করেছিলেন, তাঁকে যথাযথ কৃতিত্ব দেওয়া হয়নি। সেই বিতর্কও সে সময় যথেষ্ট আলোচনায় ছিল।
তাহলে র্যাঞ্চোর প্রকৃত পরিচয় কী?
সব তথ্য একসঙ্গে বিচার করলে স্পষ্ট হয়—
র্যাঞ্চো শুধুমাত্র সোনম ওয়াংচুক নন।
শুধুমাত্র FTII-র সেই ছাত্রও নন।
শুধু বিধু বিনোদ চোপড়ার জীবন থেকেও তৈরি নয়।
বরং এই চরিত্রটি বহু বাস্তব মানুষ, অভিজ্ঞতা, শিক্ষা-দর্শন এবং সত্য ঘটনার সমন্বয়ে নির্মিত একটি কাল্পনিক চরিত্র, যা আজও দর্শকদের কাছে সমানভাবে অনুপ্রেরণার উৎস।

দীর্ঘদিন ধরে অনেকের ধারণা ছিল, ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর র্যাঞ্চো বা ফুংসুখ ওয়াংডু চরিত্রটি শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে কেন্দ্র করেই তৈরি। কিন্তু সম্প্রতি আমির খানের মন্তব্য এবং পরিচালক রাজকুমার হিরানি ও প্রযোজক বিধু বিনোদ চোপড়ার পুরনো সাক্ষাৎকার নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জানা যাচ্ছে, এই আইকনিক চরিত্রটি কোনও একজন ব্যক্তির নয়, বরং একাধিক বাস্তব ঘটনার মিশ্রণে তৈরি।











