গ্ল্যামারের ঝলকানির আড়ালে লুকিয়ে থাকে বহু শিল্পীর দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অজানা অধ্যায়ই তুলে ধরলেন জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক শাশ্বত। তিনি জানালেন, তাঁর আজকের সাফল্যের পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান রয়েছে পরিবারের, বিশেষ করে স্ত্রী শ্রুতির, যিনি নিজের স্বাচ্ছন্দ্য ও ইচ্ছাকে পাশে সরিয়ে স্বামীর স্বপ্নপূরণে পাশে থেকেছেন।

সাফল্যের পেছনে পরিবারের অবদান
জনপ্রিয় টক শো-তে অতিথি হয়ে শাশ্বত বলেন, তাঁর জীবনের প্রতিটি সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করেছেন তাঁর বাবা-মা। ছোটবেলা থেকেই তাঁরা সঙ্গীত শিক্ষার জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছিলেন। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ছেলের স্বপ্নপূরণে কোনও আপস করেননি।
বোনের ত্যাগও আজও ভোলেননি
শুধু বাবা-মাই নন, নিজের বোনের অবদানের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন শাশ্বত। তাঁর কথায়, বোনও সঙ্গীত ভালোবাসতেন এবং একসময় তাঁর সঙ্গেই তালিম নিতেন। কিন্তু ভাইয়ের শেখার সুবিধার কথা ভেবে নিজের সঙ্গীতচর্চা ছেড়ে দেন। সেই আত্মত্যাগ আজও তাঁকে আবেগপ্রবণ করে।
স্ত্রীর ত্যাগেই এগিয়েছে কেরিয়ার
২০১৭ সালে মুম্বইয়ে পাড়ি দেওয়ার পর শুরু হয় নতুন সংগ্রাম। সেই সময় স্ত্রী শ্রুতি তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন বলে জানান শাশ্বত। ছোট্ট এক কামরার ফ্ল্যাটে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই সংসার চালিয়েছেন তাঁরা। নিজের আরাম-আয়েশের কথা না ভেবে শ্রুতি সবসময় স্বামীর কেরিয়ারকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

শুধু জীবনসঙ্গী নন, সৃজনশীল সহযোগীও
শাশ্বতের কথায়, স্ত্রী শ্রুতির সঙ্গীত সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রয়েছে। নতুন কোনও সুর বা কম্পোজিশন তৈরি করলে তাঁর মতামতকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। শুধু সংসারে নয়, সৃজনশীল কাজেও শ্রুতি তাঁর অন্যতম বড় সমর্থক।

সংগ্রাম থেকে সাফল্যের শিখরে
একসময়ের সীমিত সামর্থ্যের জীবন থেকে আজ জাতীয় পুরস্কারজয়ী সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত শাশ্বত। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত সাফল্যের পিছনে পরিবারের নিঃস্বার্থ সমর্থন ও ত্যাগই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই আলোয় থাকা মানুষের পাশাপাশি তাঁদের পাশে থাকা মানুষদের অবদানও সমানভাবে স্মরণ করা উচিত।

সাফল্যের নেপথ্যে শুধু নিজের পরিশ্রম নয়, বাবা-মা, বোন এবং বিশেষ করে স্ত্রীর অসীম ত্যাগের কথাই তুলে ধরলেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী সুরকার শাশ্বত। এক টক শো-তে নিজের সংগ্রামের দিনগুলির কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।








