শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী রাস্তা নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে বিতর্ক। তালধ্বজ থেকে কালীসায়র পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পথের নিয়ন্ত্রণ বিশ্বভারতীর হাতে ফিরিয়ে না দিয়ে রাজ্য সরকারের কাছেই রাখার দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন আশ্রমিকদের একাংশ। তাঁদের আশঙ্কা, রাস্তার নিয়ন্ত্রণ বদল হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে নতুন করে বিধিনিষেধ তৈরি হতে পারে।

ঐতিহ্যের পথ ঘিরে নতুন বিতর্ক
বোলপুর-শান্তিনিকেতন শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শে গড়ে ওঠা এক অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কেন্দ্র। খোলা আকাশের নিচে পাঠদান, সবুজে ঘেরা রাস্তা এবং মুক্ত পরিবেশই শান্তিনিকেতনের পরিচয় বহন করে।এই ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তালধ্বজ থেকে কালীসায়র পর্যন্ত বিস্তৃত ঐতিহাসিক রাস্তা। সেই পথের ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কী দাবি জানানো হয়েছে?
আবেদনকারীদের বক্তব্য, রাস্তার প্রশাসনিক দায়িত্ব বিশ্বভারতীর হাতে না দিয়ে রাজ্য সরকারের কাছেই রাখা হোক। এই দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রবীণ আশ্রমিক, ঠাকুর পরিবারের সদস্য, শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের প্রতিনিধি এবং এলাকার একাংশের বাসিন্দারা।তাঁদের মতে, এই রাস্তা শুধু একটি যোগাযোগের পথ নয়, শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কেন এই আশঙ্কা?
চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, অতীতে এই এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ে নানা বিধিনিষেধের অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি এড়াতেই রাস্তার নিয়ন্ত্রণ রাজ্য সরকারের কাছেই রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।আবেদনকারীদের মতে, রাস্তা সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকাই শান্তিনিকেতনের মূল দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পরিবেশ রক্ষায়ও একাধিক প্রস্তাব
চিঠিতে শুধু রাস্তার মালিকানা নয়, পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সেগুলির মধ্যে রয়েছে—
ভারী যানবাহনের প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ।
টোটোর অবাধ চলাচলে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ।
ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ ও সবুজ আবহ সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
আবেদনকারীদের দাবি, এই পদক্ষেপগুলি নিলে শান্তিনিকেতনের স্বাভাবিক পরিবেশ ও ঐতিহাসিক চরিত্র অক্ষুণ্ণ থাকবে।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে এই রাস্তা
বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা এই রাস্তার দুই ধারে রয়েছে শান্তিনিকেতনের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপাসনা গৃহ, শান্তিনিকেতন গৃহ, নন্দন আর্ট গ্যালারি, ছাতিমতলা, রবীন্দ্রভবন, নাট্যঘর, কলাভবন, সঙ্গীতভবন এবং নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের ‘প্রতীচী’ বাড়ি।ফলে রাস্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নেওয়া যে কোনও সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য ও পর্যটন উভয়ের উপর।

তালধ্বজ থেকে কালীসায়র পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী রাস্তা বিশ্বভারতীর হাতে তুলে না দিয়ে রাজ্য সরকারের অধীনেই রাখার দাবি তুলেছেন শান্তিনিকেতনের একাংশ আশ্রমিক, ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে আবেদনপত্র।








