শীত পড়তেই একটু ঠান্ডা লাগলেই গলায় কাঁটার মতো বিঁধছে? কথা বলতে বা গিলতে সমস্যা হচ্ছে? এই সময় বাজারের দামী ওষুধ নয়, বরং ভরসা রাখতেই পারেন শীতের আনাজে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত শিম খেলে গলাব্যথা, সর্দি-কাশি ও শরীরের প্রদাহ অনেকটাই কমে।

শীতের বাজারে পুষ্টির পাওয়ারহাউস শিম
শীতের বাজার মানেই রাঙা আলু, পালং শাক, বিট, গাজর আর শিম। এর মধ্যে শিমকে বলা যায় প্রকৃত পুষ্টির ভাণ্ডার। চিকিৎসকদের মতে, শিমে রয়েছে—
প্রোটিন
ফাইবার
কার্বোহাইড্রেট
আয়রন
পটাশিয়াম
ক্যালশিয়াম
এই সব উপাদান শরীরকে ভিতর থেকে শক্ত রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

গলাব্যথা ও সর্দি-কাশিতে কেন কার্যকর
ঠান্ডা লাগলেই যাঁদের গলা ব্যথা শুরু হয়, তাঁদের জন্য শিম খুবই উপকারী। শিমের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক উপাদান গলার ফোলাভাব কমায়। ফলে খচখচে ভাব ও ব্যথা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ঘন ঘন সর্দি-কাশিতে ভুগলেও ডায়েটে শিম রাখলে উপকার মিলতে পারে।
হার্ট ও ফুসফুসকে সুরক্ষা দেয় শিম
বর্তমানে কম বয়সেই হার্টের সমস্যায় ভোগার সংখ্যা বাড়ছে। শিমে থাকা ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমে।অন্যদিকে, শীতকালে দূষণ বাড়লে ফুসফুসের উপর চাপ পড়ে। শিমে থাকা সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও জিঙ্ক ফুসফুসের প্রদাহ কমাতে সহায়ক।
গ্যাস-অম্বল ও হজমের সমস্যায় উপকারী
শীতে অনেকেই গ্যাস, অম্বল, বদহজমে ভোগেন। শিমে থাকা প্রচুর ফাইবার হজমশক্তি বাড়ায় এবং ডায়ারিয়া, ফোলাভাব, বমির মতো সমস্যা দূরে রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত শিম খেলে পেটও থাকে হালকা।

মনোযোগ বাড়াতেও সাহায্য করে
শিম শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কের পক্ষেও উপকারী। এর মধ্যে থাকা কপার মস্তিষ্কে ‘ফিল গুড’ হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে। ফলে মনঃসংযোগ বাড়ে, পড়াশোনায় বা কাজে মন বসে সহজে।
কীভাবে খাবেন শিম
শিম-আলু সেদ্ধ
শিমের তেল-ঝাল
শাকচচ্চড়িতে শিম মিশিয়ে
হালকা ভাপে রান্না করে
কম তেল-মশলায় রান্না করলেই শিমের উপকারিতা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।

শীত এলেই অনেকের নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে গলাব্যথা, খুসখুসে কাশি ও খচখচে অস্বস্তি। ওষুধের উপর ভরসা না করে, এবার ডায়েটে রাখুন শীতের একেবারে সস্তা অথচ পুষ্টিগুণে ভরপুর সবজি—শিম। নিয়মিত শিম খেলে গলাব্যথা থেকে শুরু করে হার্ট, ফুসফুস ও হজমের সমস্যাও দূরে থাকে।













