দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন চালুর পথে বড় পদক্ষেপ। মন্ত্রিসভার বৈঠকে নৈতিক অনুমোদনের পর থেকেই রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে খুশির আবহ তৈরি হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে বহু কর্মচারীর মাসিক আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বহু বছরের দাবিতে সিলমোহর, কর্মচারীদের মুখে হাসি
রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সপ্তম বেতন কমিশন চালুর দাবি উঠছিল বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠনের তরফে। অবশেষে নতুন সরকার সেই দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নৈতিক অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে লক্ষাধিক কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীরা আর্থিকভাবে বড় স্বস্তি পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরই বদলে দিতে পারে পুরো বেতন কাঠামো
সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ঘোষণা না করলেও প্রশাসনিক মহলে জোর আলোচনা, এটি ২.০ থেকে ২.৫-এর মধ্যে থাকতে পারে। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরই মূলত পুরনো বেতনকে নতুন স্কেলে রূপান্তর করে। ফলে এই সংখ্যা যত বেশি হবে, বেতন বৃদ্ধির পরিমাণও তত বেশি হবে।
কোন স্তরে কত বাড়তে পারে বেতন?
বর্তমানে রোপা ২০১৯ অনুযায়ী রাজ্য সরকারি কর্মীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৭ হাজার টাকা। যদি ২.৫ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর হয়, তাহলে সেই বেসিক বেড়ে প্রায় ৪২,৫০০ টাকায় পৌঁছতে পারে। একইভাবে—
স্তর ১০ কর্মীদের বেতন ৩২,১০০ টাকা থেকে বেড়ে হতে পারে প্রায় ৮০,২৫০ টাকা
স্তর ২০-এ ৮৪,৫০০ টাকা থেকে পৌঁছতে পারে ২ লক্ষ টাকারও বেশি
উচ্চস্তরের কর্মীদের ক্ষেত্রে বেসিক ৩ লক্ষ টাকার গণ্ডিও ছুঁতে পারে
ফলে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শুধু বেসিক নয়, বাড়বে ডিএ ও ভাতাও
নতুন পে কমিশন কার্যকর হলে শুধু মূল বেতন নয়, তার সঙ্গে যুক্ত ডিএ, বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA), যাতায়াত ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধাও বাড়বে। অর্থাৎ কর্মচারীদের হাতে পাওয়া মোট স্যালারি বর্তমানের তুলনায় অনেকটাই বেশি হতে পারে।
পেনশনভোগীরাও পেতে পারেন বড় সুবিধা
সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত, নতুন বেতন কমিশনের সুবিধা শুধু কর্মরত কর্মচারীরাই নয়, পেনশনভোগীরাও পেতে পারেন। পেনশন কাঠামোতেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের মধ্যেও আশার আলো দেখা দিয়েছে।
চূড়ান্ত ঘোষণা কবে? নজর এখন সরকারের দিকে
যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশনের সুপারিশ, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হলেই পুরো চিত্র স্পষ্ট হবে। তবে প্রাথমিক অনুমোদনের পর সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে।
রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করার নৈতিক অনুমোদনের পর সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.০ থেকে ২.৫ হতে পারে বলে জল্পনা। ফলে বহু কর্মচারীর বেসিক বেতন আড়াই গুণ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ডিএ, এইচআরএ ও অন্যান্য ভাতা যোগ হলে ইন-হ্যান্ড স্যালারিও বড়সড় বাড়তে পারে।











