ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল কার্যত। শুক্রবার দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও প্রায় পাঁচ হাজার নেতা-কর্মীকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠক করতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক থেকে রাজ্যজুড়ে এক সুরে প্রচারের বার্তা দেওয়া হবে—মুখ্য অস্ত্র ‘উন্নয়নের পাঁচালি’।
উন্নয়নের পাঁচালি: কী এই কর্মসূচি?
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের গত সাড়ে ১৪ বছরের উন্নয়নমূলক কাজের রিপোর্ট কার্ড হিসেবেই তৈরি হয়েছে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’।
এই কর্মসূচির আওতায়—
পাড়া ও গ্রাম স্তরে প্রচার
শহর ও পুরসভায় ঘরে ঘরে পৌঁছনো
সরকারি প্রকল্পের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা
এই সবকিছুই একসঙ্গে তুলে ধরা হবে মানুষের সামনে।
কেন্দ্র বনাম রাজ্য—বঞ্চনার প্রশ্নে আক্রমণ
বৈঠকে বিশেষভাবে আলোচনা হবে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে ধরার কৌশল নিয়ে। তৃণমূলের বক্তব্য—
কেন্দ্র বাংলার প্রাপ্য অর্থ আটকে রেখেছে
বিজেপি সরকার রাজ্যের উন্নয়নে বাধা দিচ্ছে
সেই পরিস্থিতিতেও রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে
এই বার্তাই জোরের সঙ্গে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নির্দেশ দেবেন অভিষেক।
জেলা সফরের ইঙ্গিত, সংগঠন চাঙ্গা করাই লক্ষ্য
সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই জেলা সফরে নামতে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবারের বৈঠক থেকেই সেই রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হবে। উত্তর থেকে দক্ষিণ—সব জেলায় সংগঠন আরও মজবুত করে ভোটের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়াই লক্ষ্য।
এসআইআর ইস্যুতেও বড় বৈঠক সামনে
শুধু শুক্রবারের বৈঠকই নয়—
আগামী ২৮ ডিসেম্বর, রবিবার এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) নিয়ে আলাদা করে একটি বৃহৎ ভার্চুয়াল সাংগঠনিক বৈঠক করবেন অভিষেক।
এই বৈঠকে রাজ্যের প্রায় ১ লক্ষ তৃণমূল নেতা-কর্মী যোগ দেবেন বলে জানা গিয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে দলের অবস্থান ও করণীয়ও সেখানে স্পষ্ট করা হবে।
২৬-এর ভোটের আগে রাজ্যজুড়ে বৃহৎ মাত্রায় প্রচারের রূপরেখা ঠিক করতে শুক্রবার ভার্চুয়াল বৈঠকে বসছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের মূল ফোকাস—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের সাড়ে ১৪ বছরের ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়া।












