অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার বিকেলে প্রায় ২৪ হাজার নেতা–কর্মীর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। তিনি ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার)–এর বিরুদ্ধে দলের কৌশল ও দায়িত্ব নির্ধারণ করেন। অভিষেক সতর্কবার্তা দেন, আগামী ছয় মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলের কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়, মানুষের কাছে গিয়ে জানান বিজেপি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করতে চাইছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখে খুশি ও অসন্তুষ্টির বিষয়ও স্পষ্টভাবে জানানো হয়।

‘সার’–এর বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রস্তুতি
ভোটার তালিকায় সার ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বেড়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘সার সহায়তা শিবির’ খোলার নির্দেশ দিয়েছেন। দলের লক্ষ্য, বিজেপি যে রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরি করেছে—লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করার ভয়—তার বিরুদ্ধে মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছানো।
দলের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন
ভার্চুয়াল বৈঠকে অভিষেক বিভিন্ন জেলার পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করেন। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা, নদিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর এবং উত্তর ২৪ পরগনার কিছু কেন্দ্রে তিনি সন্তুষ্ট নন। অন্যদিকে হুগলি, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর দিনাজপুরে দলের নেতাদের ভূমিকা প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ ও সজাগতা
নতুন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আতঙ্কে ইতিমধ্যেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অভিষেক এ প্রসঙ্গে বলেন, এই কারণেই সারকে ‘বাংলা বিরোধী কর্মসূচি’ বলা হচ্ছে। দলের নেতা-নেত্রীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী ৭–১০ দিনে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে।

বিজেপি–তৃণমূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা
বিজেপি সার ইস্যুতে চাপ তৈরি করছে। অভিষেক জানান, বিজেপি তৃণমূলকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে। তৃণমূল পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও বকেয়া তহবিলের দাবিতে আন্দোলন চালাতে, যাতে মানুষের অধিকার রক্ষায় দল সক্রিয় থাকে।
ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও কৌশল
অভিষেক বলেন, দলীয় বিধায়কদের বিএলএ–২ এজেন্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। দলের সাংসদদেরও দ্বিতীয় পর্যায়ের ‘সার’–এর জন্য সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে একশো শতাংশ এনিউমারেশন ফর্ম ফিলআপ নিশ্চিত করা দলের শীর্ষ অগ্রাধিকার।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার)–এর বিরুদ্ধে দলের কর্মীদের সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, বিজেপি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধের ন্যারেটিভ ব্যবহার করছে। আগামী বিধানসভা ভোটে প্রতিটি দিন গুরুত্বপূর্ণ; তাই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ৭–১০ দিনের জন্য বিস্তারিত কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছেন।








