উত্তরাখণ্ডের নদান্না গ্রামে সাত থারু আদিবাসী পরিবারের প্রায় ৫০ জন সনাতন ধর্ম গ্রহণ করেছেন

উত্তরাখণ্ডের উধম সিং নগর জেলার খাটিমা এলাকার নদান্না গ্রামে সাতটি থারু আদিবাসী পরিবারের প্রায় ৫০ জন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সনাতন ধর্ম গ্রহণ করেছেন। স্থানীয় তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী শিব মন্দিরে বৈদিক রীতিতে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

উত্তরাখণ্ডের উধম সিং নগর জেলার খাটিমা এলাকার নদান্না গ্রামে সাতটি থারু আদিবাসী পরিবারের প্রায় ৫০ জন ব্যক্তি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পর খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করে সনাতন ধর্ম গ্রহণ করেছেন। গ্রামটির শিব মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শুদ্ধিকরণ হোম-যজ্ঞ, পূজা-পাঠ এবং বৈদিক রীতিনীতি অনুযায়ী ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বৈদিক প্রথা অনুযায়ী শুদ্ধিকরণ হোম-যজ্ঞের পাশাপাশি উপস্থিত ব্যক্তিদের হাতে কলাভা বাঁধা হয়, কপালে চন্দনের তিলক পরানো হয়, জেনেউ ধারণ করানো হয় এবং চরণামৃত ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

স্থানীয়দের মতে, গত কয়েক দিনে এলাকায় এ ধরনের একাধিক ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাদের দাবি, গত আট দিনের মধ্যে একই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে মোট ২০৩ জন সনাতন ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

গ্রাম প্রধান মায়া জোশীর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো কিছু মানুষের সংস্পর্শে এসে আগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করতে শুরু করেছিল। পরে তারা নিয়মিত প্রার্থনা সভায় অংশ নিতে শুরু করে এবং খ্রিস্টধর্ম-সংক্রান্ত ধর্মীয় বই পড়ত। তিনি জানান, তারা গলায় ক্রস পরা শুরু করেছিল এবং হিন্দু ধর্মীয় প্রথা যেমন পূজা-অর্চনা, তিলক ও প্রসাদ গ্রহণও বন্ধ করে দিয়েছিল।

মায়া জোশীর দাবি, সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো এখন নিজেদের ইচ্ছায় পুনরায় সনাতন ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে।

শিব মন্দিরে পণ্ডিত হরিশ চন্দ্র জোশীর সান্নিধ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সূচনা হয় গণেশ বন্দনা এবং হোম-যজ্ঞের মাধ্যমে। পরে উপস্থিত সকলের হাতে কলাভা বাঁধা হয়, চন্দনের তিলক পরানো হয় এবং জেনেউ ধারণ করানো হয়। অনুষ্ঠানের শেষে চরণামৃত ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো তাদের কাছে থাকা খ্রিস্টধর্ম-সংক্রান্ত প্রতীক ও ধর্মীয় বই ব্যবহার বন্ধ করার কথাও জানায়। অনুষ্ঠানে গ্রামের একাধিক জনপ্রতিনিধি, সমাজকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

এই অনুষ্ঠানে প্রাক্তন গ্রাম প্রধান রামকিশোর রাণাসহ এলাকার একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি অংশ নেন। স্থানীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠানটি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে বিষয়টির বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় দিক নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে। এই প্রতিবেদন স্থানীয়ভাবে উপলব্ধ তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।

 

Leave a comment