গেট পুরোপুরি বন্ধ না হলে সবুজ সিগন্যাল নয়! দুর্ঘটনা রুখতে পূর্ব রেলের বড় প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ

রেল দুর্ঘটনা রুখতে পূর্ব রেলের বড় পদক্ষেপ। হাই-টেক ইন্টারলকড লেভেল ক্রসিংয়ে গেট পুরোপুরি বন্ধ ও লক না হওয়া পর্যন্ত সবুজ সিগন্যাল দেওয়া হবে না। জানুন বিস্তারিত।

রেললাইনে দুর্ঘটনা রুখতে এবার আরও কড়া হচ্ছে পূর্ব রেল। যাত্রী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে রেলগেটগুলিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ‘হাই-টেক ইন্টারলকড লেভেল ক্রসিং’ ব্যবস্থায় গেট সম্পূর্ণ বন্ধ ও সুরক্ষিতভাবে লক না হওয়া পর্যন্ত ট্রেনের সিগন্যাল সবুজ হবে না। ফলে গেট খোলা থাকা অবস্থায় ট্রেন চলাচলের সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন প্রয়োজন এই নতুন প্রযুক্তি?

এতদিনের প্রচলিত নন-ইন্টারলকড লেভেল ক্রসিং ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে স্টেশন মাস্টার এবং গেটকিপারের মধ্যে টেলিফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে ট্রেন চলাচল ও গেট বন্ধ করার প্রক্রিয়া পরিচালিত হত। এই ব্যবস্থায় কোনও ধরনের মানবিক ভুলের সম্ভাবনা থেকে যেত।এই ঝুঁকি কমাতেই এবার রেলগেটকে সরাসরি সিগন্যালিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কীভাবে কাজ করবে ‘হাই-টেক ইন্টারলকড লেভেল ক্রসিং’?

নতুন ব্যবস্থায় লেভেল ক্রসিংয়ের গেট ইলেকট্রনিকভাবে রেলের সিগন্যালিং সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

এর ফলে—

গেট পুরোপুরি বন্ধ না হলে ট্রেনের সিগন্যাল সবুজ হবে না।

গেট সম্পূর্ণভাবে লক না হওয়া পর্যন্ত ট্রেনকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।

গেট সামান্য খোলা থাকলেও সিগন্যাল লাল থাকবে।

গেট বন্ধ ও নিরাপদ অবস্থায় পৌঁছনোর পরেই ট্রেনের জন্য সবুজ সিগন্যাল চালু হবে।

অর্থাৎ, গেটকিপারের ভুল বা যোগাযোগের সমস্যার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

পূর্ব রেলের কতগুলি গেট ইন্টারলকড হয়েছে?

প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পূর্ব রেলের অধীনে মোট ৯০৬টি ম্যানড লেভেল ক্রসিং (MLC) রয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ৮০৭টি লেভেল ক্রসিং ইন্টারলকড করা হয়েছে।

চারটি ডিভিশনে ইন্টারলকড গেটের সংখ্যা হল—

ডিভিশন ইন্টারলকড লেভেল ক্রসিং

শিয়ালদহ ৩৬৮টি

হাওড়া ২৬৭টি

আসানসোল ৯৩টি

মালদহ ৭৯টি

মোট ৮০৭টি

অবশিষ্ট ৯৯টি নন-ইন্টারলকড গেটেও দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুধু রেলগেট নয়, তৈরি হচ্ছে আন্ডারপাসও

লেভেল ক্রসিংয়ে যানজট এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমাতে পূর্ব রেল রোড আন্ডার ব্রিজ (RUB) এবং লিমিটেড হাইট সাবওয়ে (LHS) তৈরির উপরও গুরুত্ব দিচ্ছে।এখন পর্যন্ত পূর্ব রেলের বিভিন্ন ডিভিশন মিলিয়ে ৫৭৯টি আন্ডারপাস চালু করা হয়েছে।

এর মধ্যে—

হাওড়া: ২৪৪টি

শিয়ালদহ: ১১৯টি

মালদহ: ১১২টি

আসানসোল: ১০৪টি

এই আন্ডারপাস চালু হওয়ায় রেলগেটের উপর নির্ভরতা কমছে। একইসঙ্গে যানবাহন, জরুরি পরিষেবা এবং অ্যাম্বুলেন্সের যাতায়াতও আরও সহজ হচ্ছে।

চার ডিভিশনেই চলছে আধুনিকীকরণের কাজ

পূর্ব রেলের শিয়ালদহ, হাওড়া, আসানসোল এবং মালদহ—এই চারটি ডিভিশনেই রেলগেট আধুনিকীকরণের পাশাপাশি নিরাপদ পারাপারের পরিকাঠামো তৈরির কাজ চলছে।লক্ষ্য একটাই—রেললাইন পারাপারের ক্ষেত্রে মানুষের ঝুঁকি কমানো এবং ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা।

যাত্রী নিরাপত্তায় পূর্ব রেলের বার্তা

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (CPRO) শিবরাম মাঝির বক্তব্য অনুযায়ী, যাত্রী নিরাপত্তাই রেলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে রেলপথের নিরাপত্তা আরও উন্নত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া হচ্ছে।

রেল দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে পূর্ব রেলের চারটি ডিভিশনে লেভেল ক্রসিং আধুনিকীকরণের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। নতুন ইন্টারলকড ব্যবস্থায় রেলগেট পুরোপুরি বন্ধ ও লক না হওয়া পর্যন্ত ট্রেনের জন্য সবুজ সিগন্যাল দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি রোড আন্ডার ব্রিজ ও লিমিটেড হাইট সাবওয়ে তৈরির মাধ্যমেও নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Leave a comment