গ্রীষ্মের শুরুতেই বাড়ির এসি সার্ভিসিং করানো অনেকেরই অভ্যাস। কিন্তু এই সময় অনেকেই শুনতে পান—“এসি গ্যাস শেষ হয়ে গেছে, রিফিল করতে হবে।” অনেক ক্ষেত্রে এই দাবি সত্যি হলেও সবসময় নয়। তাই গ্যাস রিফিল করার আগে কয়েকটি সহজ বিষয় পরীক্ষা করলে অযথা হাজার হাজার টাকা খরচ থেকে বাঁচা সম্ভব।
সব সময় কি গ্যাস রিফিল দরকার?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির গ্যাস সাধারণত বারবার শেষ হয়ে যায় না। যদি কোথাও গ্যাস লিক না থাকে, তবে বহু বছর একই গ্যাস ব্যবহার করা যায়।
তাই সার্ভিসিংয়ের সময় টেকনিশিয়ান গ্যাস শেষ বলে দাবি করলে সরাসরি বিশ্বাস না করে আগে কয়েকটি লক্ষণ পরীক্ষা করা জরুরি।
আগে এসির কুলিং পরীক্ষা করুন
সার্ভিসিংয়ের আগে কয়েক মিনিট এসি চালিয়ে দেখুন। যদি ঘর স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হয়, তাহলে গ্যাস ঠিকই আছে।
অনেক সময় সার্ভিসিংয়ের পর কুলিং কমে গেলে সেটি সার্ভিসিংয়ের ভুলের কারণেও হতে পারে।
কয়েলে বরফ জমছে কি না দেখুন
এসি ইউনিটের কয়েলে যদি বরফ জমে যায়, তাহলে এটি গ্যাস লিক বা কম গ্যাসের লক্ষণ হতে পারে।
গ্যাস কম থাকলে কয়েল অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে যায় এবং বাতাসের আর্দ্রতা বরফে পরিণত হয়।
বাইরের ইউনিটের পাইপে তেলের দাগ
এসি পাইপের ভেতরে গ্যাসের সঙ্গে বিশেষ ধরনের তেল চলাচল করে।
যদি কোথাও লিক থাকে, তাহলে গ্যাস উড়ে গেলেও তেল পাইপের বাইরে জমে থাকতে পারে। তাই বাইরের ইউনিটের পাইপে আঠালো তেলের মতো দাগ দেখা গেলে তা গ্যাস লিকের ইঙ্গিত হতে পারে।
‘বাবল টেস্ট’ করেই নিশ্চিত হোন
গ্যাস লিক পরীক্ষা করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ‘বাবল টেস্ট’।
এই পরীক্ষায় পাইপের জয়েন্টে সাবান বা ডিটারজেন্টের ঘন দ্রবণ লাগানো হয়। যদি সেখানে গ্যাস লিক থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বুদবুদ তৈরি হবে।
আর যদি কোনও বুদবুদ না দেখা যায়, তাহলে গ্যাস লিকের সম্ভাবনা খুব কম।
গরম পড়তেই এসি সার্ভিসিংয়ের সময় অনেক টেকনিশিয়ানই বলেন গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু সবসময় গ্যাস রিফিলের প্রয়োজন হয় না। কয়েকটি সহজ পরীক্ষা—যেমন কুলিং চেক, কয়েলে বরফ, পাইপে তেলের দাগ এবং ‘বাবল টেস্ট’—করলেই বোঝা যাবে সত্যিই গ্যাস লিক হয়েছে কি না।









