বর্তমানে শহর ও শহরতলির অধিকাংশ বাড়িতে পানীয় জল নিরাপদ রাখতে RO বা জল পরিশোধক ব্যবহার করা হয়। তবে অনেকেই একবার মেশিন ইনস্টল করার পর দীর্ঘদিন তা পরীক্ষা বা প্রতিস্থাপন করেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো ফিল্টার বা যন্ত্রাংশ পরিবর্তন না করলে পিউরিফায়ারের ভেতরে ব্যাকটেরিয়া জমতে পারে এবং জলের গুণমান খারাপ হয়ে যেতে পারে। তাই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ দেখলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
পরিবর্তিত স্বাদ ও দুর্গন্ধ হতে পারে বড় সংকেত
যদি RO থেকে বের হওয়া জলের স্বাদ হঠাৎ তিক্ত বা অস্বাভাবিক হয়ে যায়, কিংবা কাদার মতো গন্ধ পাওয়া যায়, তবে এটি পিউরিফায়ারের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। সাধারণত কার্বন ফিল্টার বা মেমব্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হলে জলের মধ্যে থাকা ক্লোরিন ও অন্যান্য দূষিত পদার্থ ঠিকভাবে শোষিত হয় না। ফলে জলের স্বাদ ও গন্ধ বদলে যায়।
জলের প্রবাহ কমে গেলে সতর্ক হোন
অনেক সময় দেখা যায় RO থেকে জল আগের মতো দ্রুত বের হয় না। অনেকেই মনে করেন মেশিনে জল নেই। কিন্তু বাস্তবে ফিল্টার বা মেমব্রেনে ময়লা জমে গেলে জলের চাপ কমে যায়। প্রথমে সার্ভিস করালে সমস্যা মিটতে পারে। তবে সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে মেশিন বদলানোর কথাও ভাবতে হবে।
TDS মাত্রা বেড়ে গেলে ঝুঁকি বাড়তে পারে
একটি ভালো জল পরিশোধক সাধারণত জলের TDS বা Total Dissolved Solids নিয়ন্ত্রণে রাখে। পানীয় জলের জন্য সাধারণত ৫০ থেকে ১৫০ TDS উপযুক্ত ধরা হয়। ডিজিটাল TDS মিটার দিয়ে পরীক্ষা করলে যদি দেখা যায় মাত্রা বারবার বেশি হচ্ছে, তাহলে বুঝতে হবে মেশিনের ভেতরের সিস্টেমে সমস্যা হয়েছে।
জলে ঘোলাভাব বা ভাসমান কণা দেখা গেলে
পরিষ্কার পানীয় জল সাধারণত কাচের মতো স্বচ্ছ হয়। যদি জলে হলুদ আভা, ঘোলাভাব বা ছোট ছোট কণা ভাসতে দেখা যায়, তাহলে পিউরিফায়ারের ফিল্টার ঠিকভাবে কাজ করছে না। এমন জল পান করলে পেটের সংক্রমণ বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা হতে পারে।
ঘন ঘন মেরামত মানেই বদলানোর সময়
যদি প্রতি কয়েক মাস অন্তর RO মেরামতের জন্য মেকানিক ডাকতে হয়, তাহলে সেটি আর ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় নেই বলেই ধরে নেওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ভালো জল পরিশোধকের গড় আয়ু প্রায় ৫ থেকে ১০ বছর। এর পরে প্লাস্টিক বডি ও পাইপলাইনে ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
অনেক বাড়িতেই একবার RO জল পরিশোধক বসানোর পর বছরের পর বছর তা পরিবর্তন বা ঠিকমতো সার্ভিস করা হয় না। কিন্তু পুরনো বা ক্ষতিগ্রস্ত পিউরিফায়ার পরিষ্কার জলের বদলে উল্টো ব্যাকটেরিয়া ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। জলের স্বাদ বদলে যাওয়া, TDS বৃদ্ধি বা জল ঘোলা হয়ে যাওয়ার মতো কয়েকটি লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হওয়া জরুরি।











