সমাজে এখনও এমন বহু পরিবার রয়েছে, যেখানে ঋতুস্রাবের সময় মহিলাদের নানা বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। মন্দিরে প্রবেশ, পুজো-অর্চনা কিংবা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিয়েও রয়েছে নানা প্রচলিত ধারণা। তবে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই এই বিষয়গুলিকে নতুনভাবে দেখছেন। সেই তালিকায় নাম লেখালেন টেলিভিশন অভিনেত্রী মানসী ঘাটে, যিনি পিরিয়ড নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করে আলোচনায় উঠে এসেছেন।
ঋতুস্রাবের সময় কেন তৈরি হয়েছিল এই নিয়ম?
অভিনেত্রীর মতে, অতীতের সমাজব্যবস্থায় নারীদের শারীরিক বিশ্রামের সুযোগ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই কিছু নিয়ম তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, ঋতুস্রাবের সময় শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। সেই কারণে মহিলাদের কয়েকদিন বিশ্রাম দেওয়ার জন্য তাঁদের কাজ থেকে দূরে রাখা হতো। সময়ের সঙ্গে সেই সামাজিক প্রথাই অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধিনিষেধের রূপ নিয়েছে।
‘আমাদের বাড়িতে এমন কোনও বাধা ছিল না’
মানসী জানান, তাঁর পরিবারে কখনও ঋতুস্রাবের সময় আলাদা করে বসে থাকা বা পুজো না করার নিয়ম ছিল না। তাঁর মা কিংবা দিদিমাও এই বিষয়ে কোনও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেননি। ফলে ছোটবেলা থেকেই তিনি এই বিষয়টিকে স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেছেন।
‘ঈশ্বরের উপাসনায় বাধা নেই’
অভিনেত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পিরিয়ড হওয়া কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। তাই এই সময় মন্দিরে যাওয়া বা পুজো করার ক্ষেত্রে তিনি কোনও সমস্যা দেখেন না। তাঁর মতে, ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি ও বিশ্বাস ব্যক্তিগত বিষয় এবং তা ঋতুচক্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত নয়।
কাজই তাঁর কাছে ঈশ্বর
মানসীর কথায়, একজন শিল্পী হিসেবে তিনি নিজের কাজকেই ঈশ্বরের সমতুল্য মনে করেন। শুধুমাত্র ঋতুস্রাবের কারণে চারদিন সব কাজ বন্ধ করে ঘরে বসে থাকা উচিত নয় বলেই তাঁর বিশ্বাস। তিনি জানান, পিরিয়ড চলাকালীনও তিনি নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন এবং নিয়মিত উপাসনাও করেন।
অসুস্থতাকে হারিয়ে ফিরেছেন অভিনয়ে
অভিনয় জীবনে একসময় শারীরিক অসুস্থতার কারণেও কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল মানসী ঘাটেকে। শরীরে ফোলাভাব ও হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে তাঁকে কয়েক মাস কাজ থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল। তবে চিকিৎসা ও বিশ্রামের পর তিনি আবার অভিনয় জগতে সক্রিয়ভাবে ফিরে আসেন।
ঋতুস্রাবের সময় মন্দিরে যাওয়া বা পুজো করা নিয়ে সমাজে এখনও নানা মতভেদ রয়েছে। এই বিতর্কের মধ্যেই অভিনেত্রী মানসী ঘাটে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি পিরিয়ডের সময়ও মন্দিরে যান এবং ঈশ্বরের উপাসনা করেন। তাঁর মতে, ঋতুস্রাব একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, এর সঙ্গে ধর্মীয় আচার পালনের কোনও বিরোধ নেই।













