বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে টেস্ট ড্র করল আফগানিস্তান

সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্টে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান করে ম্যাচ ড্র করল আফগানিস্তান। সিদিকুল্লাহ আতাল ৩৩২ বলে ১১১ রান করেন।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (UAE) বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি রোমাঞ্চকর ড্রয়ে শেষ হয়েছে। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড নেওয়ার পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। ফলে আফগানিস্তানের সামনে জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। পঞ্চম ও শেষ দিনে ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান করে ম্যাচ ড্র করে আফগানিস্তান। দলের হয়ে ওপেনার সিদিকুল্লাহ আতাল ৩৩২ বলে ১১১ রানের ইনিংস খেলেন।

পঞ্চম দিনে আফগানিস্তান ১৪২ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তোলে। বড় লক্ষ্য তাড়া করার চাপের মধ্যে দ্রুত রান তোলার পরিবর্তে উইকেট ধরে রেখে ম্যাচ বাঁচানোর দিকে মনোযোগ দেয় দলটি। আতালের শতরান এবং নীচের সারির ব্যাটারদের প্রতিরোধ বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাকে শেষ পর্যন্ত আটকে দেয়।

ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৪৬ রান করে। জবাবে আফগানিস্তানের ইনিংস শেষ হয় ২৪০ রানে। এর ফলে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ১০৬ রানের লিড পায়। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।

দুই দলের প্রথম ইনিংসের পারফরম্যান্স এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের স্কোরের ভিত্তিতে আফগানিস্তানের সামনে জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের লক্ষ্য ছিল। শেষ দিনে এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান দ্রুত রান তোলার পরিবর্তে উইকেট ধরে রাখার কৌশল গ্রহণ করে। সেই ব্যাটিংয়ের সুবাদে দলটি শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়ায়।

আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে সিদিকুল্লাহ আতাল ৩৩২ বল খেলে ১১১ রান করেন। বাঁহাতি এই ওপেনারের ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা। তিনি ১৬৬ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন এবং ২৭৭ বল খেলে শতরানে পৌঁছন।

আতালের ব্যাটিং আফগানিস্তানের ইনিংসে স্থিতি এনে দেয়। ধারাবাহিকভাবে উইকেট পড়ার চাপের মধ্যেও তিনি ক্রিজে থেকে দলকে ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে ধরে রাখেন। ইক্রম আলিখিলের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে তাঁর ৫০ রানের জুটি আফগানিস্তানকে ২০০ রানের গণ্ডি পেরোতে সাহায্য করে।

পঞ্চম দিনে বাংলাদেশ দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের ফল নির্ধারণের চেষ্টা করে। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে আফগানিস্তানের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ২০২ রান। চা-বিরতি পর্যন্ত দলটি ৬ উইকেটে ২৬৫ রান তোলে। এই সময়েও আতাল ক্রিজে ছিলেন এবং শতরান পূর্ণ করার পরও দলের প্রতিরোধ অব্যাহত রাখেন।

শেষ সেশনে বাংলাদেশ আবার চাপ তৈরি করে। আফগানিস্তানের স্কোর ৭ উইকেটে ২৮১ হওয়ার পর ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে নীচের সারির ব্যাটাররা প্রতিরোধ চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলামের বলে তানজিদ হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন আতাল। তাঁর ১১১ রানের ইনিংস শেষ হওয়ার আগেই আফগানিস্তান ম্যাচ বাঁচানোর মতো অবস্থানে পৌঁছে যায়।

এরপর ইয়ামিন আহমদজাই এবং কাইস আহমদও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাঁদের ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তান ৩০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান করে।

আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান করায় ম্যাচটি ড্র হয়। প্রথম ইনিংসে লিড এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দেওয়ার পরও বাংলাদেশ শেষ দিনে আফগানিস্তানের ব্যাটিং প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি। সিদিকুল্লাহ আতালের ১১১ রানের ইনিংস এবং নীচের সারির ব্যাটারদের লড়াইয়ের সুবাদে আফগানিস্তান পরাজয় এড়িয়ে ম্যাচ ড্র করে।

 

Leave a comment