বীরভূমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আহমেদপুর-কাটোয়া শাখায় ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি বহু বছরের। প্রতিদিন কর্মসূত্রে যাতায়াত, শিক্ষার্থী ও তীর্থযাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বারবার রেল কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এবার সেই দাবির পক্ষে ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে রেলমন্ত্রকের তরফে। ফলে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন হাজার হাজার যাত্রী।

দীর্ঘদিনের দাবি, এবার মিলল ইতিবাচক সাড়া
আহমেদপুর-কাটোয়া রেলপথে পর্যাপ্ত ট্রেন না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে অফিসযাত্রী, পড়ুয়া এবং ব্যবসায়ীদের নিয়মিত যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ট্রেন চালুর দাবি দীর্ঘদিন ধরে তুলে আসছে স্থানীয় যাত্রী সংগঠন। সম্প্রতি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের দফতর থেকে পাঠানো একটি চিঠি সেই দাবিকে নতুন করে জোরালো করেছে।
ফুল্লরা সতীপীঠকে কেন্দ্র করেও বাড়ছে ট্রেনের প্রয়োজন
লাভপুরের ঐতিহ্যবাহী ফুল্লরা সতীপীঠে সারা বছরই বহু ভক্ত ও পর্যটকের সমাগম হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত ট্রেন পরিষেবা না থাকায় তাঁদেরও সমস্যায় পড়তে হয়। এই বিষয়টি সামনে রেখেই 'আহমেদপুর কাটোয়া রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন' দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ট্রেন চালুর দাবি জানিয়ে আসছে। অতীতে কয়েকটি ট্রেন চালু হলেও যাত্রীদের মতে, বর্তমান চাহিদার তুলনায় তা এখনও যথেষ্ট নয়।

বিধায়কের চিঠির জবাবে রেলমন্ত্রকের আশ্বাস
গত ৬ জুন লাভপুরের বিধায়ক দেবাশীষ ওঝা রেলমন্ত্রীকে চিঠি লিখে আহমেদপুর-কাটোয়া শাখার উন্নয়ন এবং ট্রেন সংখ্যা বৃদ্ধির আবেদন জানান। সেই আবেদনের জবাবে রেলমন্ত্রী স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে। এই সরকারি প্রতিক্রিয়ার পর এলাকায় আশাবাদের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ডিআরএম অফিসে নতুন আবেদন, সরাসরি কলকাতা ট্রেনের দাবি
রেলমন্ত্রকের উত্তর পাওয়ার পরও দাবির গতি কমেনি। শনিবার যাত্রী সংগঠনের প্রতিনিধিরা হাওড়ার ডিআরএম অফিসে গিয়ে নতুন আবেদনপত্র জমা দেন। তাঁদের মূল দাবি, সকাল ও সন্ধ্যায় আহমেদপুর-কাটোয়া রুট থেকে সরাসরি কলকাতাগামী ট্রেন চালু করা হোক, যাতে নিত্যযাত্রীদের সময় ও ভোগান্তি অনেকটাই কমে।

পরিকাঠামো উন্নয়নের আশায় বীরভূমের মানুষ
স্থানীয়দের মতে, ট্রেনের সংখ্যা বাড়লে শুধু যাতায়াত নয়, পর্যটন, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে। রেল পরিকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে এই শাখা নতুন গুরুত্ব পেতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে। এখন রেল কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা এলাকা।

বীরভূমের আহমেদপুর-কাটোয়া রেলপথে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ট্রেন চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন যাত্রীরা। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের দফতর থেকে ইতিবাচক উত্তর আসার পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় মানুষ। একই সঙ্গে হাওড়ার ডিআরএম অফিসে সরাসরি কলকাতা ট্রেনের দাবিও জানিয়েছে যাত্রী সংগঠন।











