বীরভূমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আহমেদপুর-কাটোয়া শাখায় ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবি ফের জোরালো হয়েছে। সম্প্রতি রেলমন্ত্রীর দফতর থেকে পাঠানো একটি চিঠিতে সংশ্লিষ্ট দাবিগুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস মিলেছে। এর জেরে স্থানীয় বাসিন্দা, নিত্যযাত্রী এবং যাত্রী সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বহুদিনের দাবির কেন্দ্রে আহমেদপুর-কাটোয়া রেলপথ
আহমেদপুর-কাটোয়া রেললাইন বহু গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম ভরসা। কর্মসূত্রে, পড়াশোনা কিংবা চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই রুটের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু পর্যাপ্ত ট্রেন না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাই অতিরিক্ত ট্রেন চালুর দাবি বহু বছর ধরেই উঠছে।
ফুল্লরা সতীপীঠের পর্যটনেও বাড়বে গতি
লাভপুরের ঐতিহাসিক ফুল্লরা সতীপীঠে সারা বছরই বহু ভক্ত ও পর্যটকের সমাগম হয়। স্থানীয়দের মতে, ট্রেনের সংখ্যা বাড়লে শুধু সাধারণ যাত্রীদের সুবিধাই হবে না, ধর্মীয় পর্যটনও নতুন গতি পাবে। সেই লক্ষ্যেই 'আহমেদপুর কাটোয়া রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন' দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন ও স্মারকলিপি জমা দিয়ে আসছে।
বিধায়কের উদ্যোগে পৌঁছল বিষয়টি রেলমন্ত্রকের শীর্ষে
গত ৬ জুন লাভপুরের বিধায়ক দেবাশীষ ওঝা কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে লিখিতভাবে এই রেলপথের উন্নয়ন এবং ট্রেন বাড়ানোর আবেদন জানান। ওই আবেদনে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
রেলমন্ত্রীর জবাবে বাড়ল আশার আলো
রেলমন্ত্রীর দফতর থেকে পাঠানো জবাবি চিঠিতে জানানো হয়েছে, উত্থাপিত দাবিগুলি সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যদিও এখনও নতুন ট্রেন চালুর বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবুও এই সরকারি প্রতিক্রিয়াকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন এলাকার মানুষ।
সরাসরি কলকাতা সংযোগের দাবিতে নতুন আবেদন
রেলমন্ত্রকের আশ্বাসের পরই যাত্রী সংগঠনের প্রতিনিধিরা হাওড়া ডিআরএম অফিসে গিয়ে ফের স্মারকলিপি জমা দেন। তাঁদের মূল দাবি, সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে আহমেদপুর-কাটোয়া রুট থেকে কলকাতার উদ্দেশে সরাসরি ট্রেন চালু করা হোক। এতে নিত্যযাত্রীদের সময় ও ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে দাবি সংগঠনের।
দীর্ঘদিন ধরে আহমেদপুর-কাটোয়া রেলপথে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন যাত্রীরা। এবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের দফতর থেকে ইতিবাচক বার্তা আসায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমানের মানুষ। যাত্রী সংগঠনও সরাসরি ট্রেন চালুর দাবিতে আবারও রেল কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছে।







