আগ্রায় সেঠ অচল সিংহের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে কংগ্রেস কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রেখে রাজনৈতিক পরিবেশকে সরব করেন Ajay Rai। অনুষ্ঠানে তিনি মঞ্চ থেকে বলেন, “আমরা রাহুল গান্ধীর সৈনিক, পিছিয়ে যাওয়ার মানুষ নই।” তাঁর এই মন্তব্যের পর সভাস্থল করতালি ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক কংগ্রেস কর্মী, স্থানীয় নেতা এবং সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। অজয় রায় মঞ্চে পৌঁছতেই কর্মীরা তাঁকে জোরালোভাবে স্বাগত জানান। রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের সমর্থনে স্লোগান দেওয়া হয়। বহু কর্মী দলের পতাকা ও পোস্টার হাতে নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
নিজের বক্তব্যে অজয় রায় কংগ্রেসের আদর্শ ও দলের সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস সবসময় দরিদ্র, কৃষক, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছে। তাঁর দাবি, দলের কর্মীরা প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও দাঁড়িয়ে থাকবেন।
অজয় রায় বিজেপি ও সরকারের সমালোচনা করে বলেন, জনগণের প্রকৃত সমস্যাগুলি থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং কৃষকদের সমস্যা নিয়ে সরকারকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস এই বিষয়গুলি ধারাবাহিকভাবে উত্থাপন করবে এবং জনগণের অধিকারের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
সভায় তিনি Rahul Gandhi-র ভারত জোড়ো যাত্রা এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার প্রশংসাও করেন। অজয় রায় বলেন, রাহুল গান্ধী ধারাবাহিকভাবে দেশজুড়ে মানুষের মধ্যে গিয়ে তাঁদের সমস্যার কথা শুনছেন এবং এটিই কংগ্রেসের প্রকৃত শক্তি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক কংগ্রেস নেতা তাঁদের বক্তব্যে সংগঠনকে শক্তিশালী করার উপর জোর দেন। তাঁরা কর্মীদের গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং দলের নীতিগুলি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অজয় রায়ের এই মন্তব্য শুধুমাত্র আবেগঘন প্রতিক্রিয়া নয়, বরং রাজ্যে কংগ্রেসকে পুনরায় সক্রিয় করার কৌশলের অংশও হতে পারে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সঞ্চারের চেষ্টা করছে।
অনুষ্ঠানে সেঠ অচল সিংহের অবদানও স্মরণ করা হয়। নেতারা তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক কাজের উল্লেখ করে শ্রদ্ধা জানান। মঞ্চে উপস্থিত নেতারা বলেন, সমাজের জন্য কাজ করা ব্যক্তিদের আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
সভায় যুবকদের উপস্থিতিও বিশেষভাবে লক্ষণীয় ছিল। বহু যুব কর্মী রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সমর্থনে স্লোগান দিতে দেখা যায়। অনুষ্ঠানস্থলে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছিলেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তর প্রদেশে কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। সেই কারণেই দলটি ছোট-বড় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মীদের সক্রিয় করতে উদ্যোগী হয়েছে।
নিজের বক্তব্যের শেষে অজয় রায় বলেন, কংগ্রেস কর্মীরা কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না এবং দল গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাবে। তাঁর বক্তব্যের পর কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।
বর্তমানে এই অনুষ্ঠান এবং অজয় রায়ের মন্তব্য রাজনৈতিক মহল থেকে সামাজিক মাধ্যম পর্যন্ত আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কংগ্রেস সমর্থকরা এটিকে দলের আত্মবিশ্বাস ও সাংগঠনিক শক্তির ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরছেন।











