Astro Tips: জ্যোতিষ মতে এই গ্রহের কুপ্রভাবেই বাড়ে নেশার টান! মুক্তির উপায়ও জানাল শাস্ত্র

জ্যোতিষ মতে রাহু, শুক্র ও অন্যান্য গ্রহের অশুভ প্রভাবে বাড়তে পারে নেশার প্রবণতা। মদ্যপানের আসক্তি কাটাতে কী কী প্রতিকার বলা হয়েছে, জানুন বিস্তারিত।

মানুষ বুঝেও অনেক সময় নেশার জাল থেকে বেরোতে পারেন না। পরিবার, সম্পর্ক, স্বাস্থ্য—সব কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মদের প্রতি টান কমে না। জ্যোতিষশাস্ত্রের মতে, এর পিছনে শুধুই মানসিক কারণ নয়, গ্রহের প্রভাবও কাজ করতে পারে। বিশেষ কিছু গ্রহের অশুভ অবস্থান মানুষের মনকে দুর্বল করে নেশার দিকে ঠেলে দেয় বলে মত জ্যোতিষবিদদের।

রাহুর অশুভ প্রভাবেই বাড়ে আসক্তি?

জ্যোতিষ মতে, রাহু যদি দুর্বল অবস্থানে থাকে, বিশেষ করে বৃশ্চিক রাশিতে অবস্থান করে, তাহলে ব্যক্তি সহজেই নেশার প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন। এর সঙ্গে যদি শনি, মঙ্গল ও কেতুর প্রভাব চন্দ্রের উপর পড়ে, তাহলে মানসিক অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়।ফলে ব্যক্তি বাস্তব জীবন থেকে পালানোর পথ হিসেবে মদ্যপান বা অন্য নেশাজাতীয় অভ্যাসের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন। অনেক ক্ষেত্রেই খারাপ সঙ্গ বা মানসিক চাপ এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

বৃহস্পতির শুভ দৃষ্টি দিতে পারে মুক্তির পথ

জ্যোতিষশাস্ত্রে বৃহস্পতিকে শুভ গ্রহ হিসেবে ধরা হয়। বলা হয়, চন্দ্র যদি বৃহস্পতির শুভ দৃষ্টিতে থাকে, তাহলে ব্যক্তি ধীরে ধীরে আত্মনিয়ন্ত্রণ ফিরে পান।এই অবস্থায় নেশা ছাড়ার ইচ্ছাশক্তি বাড়তে শুরু করে। মানসিক দৃঢ়তা ও ইতিবাচক চিন্তাভাবনাও বৃদ্ধি পায় বলে মনে করা হয়। ফলে ব্যক্তি নিজের ক্ষতি উপলব্ধি করে ধীরেধীরে আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন।

রাহু-শুক্রের যোগও বাড়ায় ভোগবিলাস

জ্যোতিষ মতে, রাহু ও শুক্রের শক্তিশালী সংযোগও মানুষকে ভোগবিলাসের দিকে ঠেলে দেয়। বিশেষ করে শুক্র দুর্বল হলে ব্যক্তি অতিরিক্ত আনন্দ, বিলাসিতা বা নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়তে পারেন।এমন অবস্থায় অনেকেই ভুল বন্ধু বা খারাপ সঙ্গের প্রভাবে মদ্যপান শুরু করেন। পরে তা ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়।

আসক্তি কাটাতে কী কী প্রতিকার বলা হয়েছে?

জ্যোতিষশাস্ত্রে কিছু প্রতিকারের কথাও উল্লেখ রয়েছে। বিশ্বাস অনুযায়ী—

ক্যাটস আই রত্ন ধারণ করা উপকারী হতে পারে

প্রতিদিন জলে কুশ ঘাস মিশিয়ে স্নান করার পরামর্শ দেওয়া হয়

নিয়মিত শিবলিঙ্গে জল অর্পণ করলে মানসিক স্থিরতা বাড়ে বলে বিশ্বাস

প্রতিদিন হনুমান চালিশা পাঠ করাও শুভ বলে মনে করা হয়

শনিবার মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়

পাখিদের খাবার খাওয়ানোও ইতিবাচক ফল দিতে পারে বলে দাবি জ্যোতিষবিদদের

তবে এই সমস্ত প্রতিকার মূলত বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক চর্চার অংশ।

চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, মদ্যপানের আসক্তি অনেক সময় গুরুতর মানসিক ও শারীরিক সমস্যার সঙ্গে জড়িত থাকে। তাই শুধুমাত্র জ্যোতিষীয় প্রতিকারের উপর নির্ভর না করে প্রয়োজনে চিকিৎসক, কাউন্সেলর বা ডি-অ্যাডিকশন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।পরিবারের সমর্থন, নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং চিকিৎসাই একজন মানুষকে নেশা থেকে মুক্তির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

মদ্যপান বা নেশার অভ্যাস অনেক সময় কৌতূহল থেকে শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা মারাত্মক আসক্তিতে পরিণত হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, জন্মছকে কিছু গ্রহের অশুভ প্রভাব মানুষের মধ্যে নেশার প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষত রাহু, শুক্র, শনি ও চন্দ্রের অবস্থান এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

Leave a comment