Medicinal Plant: রাস্তার ধারে অবহেলায় বেড়ে ওঠে এই গাছ! আয়ুর্বেদে পাইলস-কাশি থেকে ত্বকের সমস্যায় ব্যবহার, তবে রয়েছে বড় সতর্কতা

রাস্তার ধারে বেড়ে ওঠা আকন্দ গাছের আয়ুর্বেদিক ব্যবহার কী? পাইলস, কাশি, শ্বাসকষ্ট, ব্রণ ও ত্বকের সমস্যায় এর ব্যবহার সম্পর্কে জানুন। বিষাক্ত আঠার কারণে কী কী সতর্কতা জরুরি, রইল বিস্তারিত।

চেনা রাস্তার ধারে বা পরিত্যক্ত জমিতে বেড়ে ওঠা গাছ বলেই আকন্দকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। অথচ এই সাধারণ গাছটির ভেষজ ব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে আয়ুর্বেদে। তবে আকন্দের সাদা দুধের মতো আঠা বিষাক্ত হওয়ায় এটি সাধারণ ঘরোয়া উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা মোটেই নিরাপদ নয়। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েই এর ব্যবহার করা উচিত।

আয়ুর্বেদে আকন্দের পরিচিতি

আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে আকন্দ পরিচিত ‘অর্ক’ বা ‘অলর্ক’ নামেও। বিভিন্ন প্রাচীন গ্রন্থে এই উদ্ভিদের একাধিক নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। লোকজ ও ভেষজ চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ধরেই আকন্দের ব্যবহার প্রচলিত।আয়ুর্বেদিক ধারণা অনুযায়ী, আকন্দের প্রকৃতি উষ্ণ এবং এটি হজমশক্তি ও বায়ুজনিত কিছু সমস্যায় সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ত্বকের কিছু সমস্যা, কৃমি এবং প্রদাহজনিত সমস্যাতেও এর ব্যবহার সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে।

সন্ধির ব্যথা ও ফোলায় ব্যবহার

আয়ুর্বেদ মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ বিশ্বজিৎ ঘোষের মতে, সন্ধিস্থানে ফোলা বা ব্যথার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আকন্দ পাতার প্রলেপ ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। তবে কতটা পরিমাণে এবং কীভাবে তা প্রয়োগ করা হবে, সেটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা জরুরি।নিজে থেকে পাতা বেটে সরাসরি শরীরে লাগানোর চেষ্টা করা উচিত নয়, বিশেষ করে ত্বক সংবেদনশীল হলে।

ত্বকের দাগ ও ব্রণের ক্ষেত্রেও উল্লেখ রয়েছে

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় আকন্দের কিছু প্রস্তুতি ত্বকের সমস্যায় ব্যবহারের কথা বলা হয়। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট উপাদানের সঙ্গে আকন্দের ব্যবহার ত্বকের কিছু অবাঞ্ছিত দাগ বা ব্রণের ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে।তবে আকন্দের আঠা সরাসরি মুখে বা ব্রণের উপর লাগানো নিরাপদ নয়। ত্বকের প্রতিক্রিয়া ব্যক্তি বিশেষে আলাদা হতে পারে এবং বিষাক্ত ল্যাটেক্সের কারণে জ্বালা বা প্রদাহও দেখা দিতে পারে।

পাইলস, কাশি ও শ্বাসকষ্টেও কি ব্যবহার হয়?

আয়ুর্বেদে অর্শ বা পাইলস, কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং কর্ণশূলের মতো বিভিন্ন সমস্যায় আকন্দের ব্যবহার উল্লেখ করা হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন। আকন্দ থেকে তৈরি ‘অর্ক লবণ’ ও ‘অর্ক ক্ষার’-এর মতো ভেষজ প্রস্তুতির কথাও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় পাওয়া যায়।তবে এগুলি নিজের হাতে তৈরি করে খাওয়া বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট বা দীর্ঘস্থায়ী কাশির মতো উপসর্গের পিছনে গুরুতর রোগও থাকতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা—আকন্দের আঠা বিষাক্ত

আকন্দের পাতা, ফুল বা অন্যান্য অংশ ছিঁড়লে যে সাদা দুধের মতো পদার্থ বের হয়, সেটি ল্যাটেক্স। এটি চোখ, মুখ বা ত্বকের সংস্পর্শে এলে জ্বালা, অস্বস্তি এবং অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।তাই আকন্দকে সাধারণ ঘরোয়া টোটকা হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। বিশেষ করে এর আঠা সরাসরি ত্বক, চোখ বা মুখে লাগানো থেকে বিরত থাকা জরুরি।

কীভাবে ব্যবহার করবেন?

আকন্দের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ নিয়ম হল নিজে থেকে কোনও ব্যবহার না করা। কোন অংশ ব্যবহার করা হবে, কীভাবে প্রস্তুত করা হবে এবং কতটা পরিমাণে প্রয়োগ করা হবে—এসবই প্রশিক্ষিত আয়ুর্বেদ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া উচিত।কোনও ত্বকের সমস্যা, পাইলস, কাশি বা শ্বাসকষ্ট থাকলে প্রথমে সমস্যার সঠিক কারণ নির্ণয় করানো জরুরি। শুধুমাত্র আকন্দের ভরসায় চিকিৎসা শুরু করা ঠিক নয়।

রাস্তার ধারে, ফাঁকা জমি কিংবা ঝোপঝাড়ে প্রায়ই দেখা যায় আকন্দ গাছ। পাতা বা ফুল ছিঁড়লে বেরিয়ে আসে সাদা দুধের মতো আঠা, যা বিষাক্ত। তবে আয়ুর্বেদে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে আকন্দের বিভিন্ন অংশ নানা সমস্যায় ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে। অর্শ, কাশি, শ্বাসকষ্ট, ব্রণ, ত্বকের কিছু সমস্যা ও প্রদাহজনিত সমস্যায় এর ব্যবহার প্রচলিত। কিন্তু নিজের ইচ্ছেমতো এই গাছের আঠা বা অন্য কোনও অংশ ব্যবহার করা বিপজ্জনক হতে পারে।

 

Leave a comment