Ali Zafar-এর ৪৬তম জন্মদিনে উঠে এল আয়েশা ফাজলির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ও বিবাহের গল্প

পাকিস্তানি গায়ক ও অভিনেতা Ali Zafar ১৮ মে ২০২৬-এ তাঁর ৪৬তম জন্মদিন পালন করছেন। তাঁর স্ত্রী আয়েশা ফাজলির সঙ্গে প্রথম পরিচয়, দীর্ঘ সম্পর্ক, ২০০৮ সালের অপহরণের অভিযোগ এবং ২০০৯ সালের বিবাহ নিয়ে প্রকাশিত তথ্য এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

অভিনেতা, গায়ক ও শিল্পী Ali Zafar ১৮ মে ২০২৬-এ তাঁর ৪৬তম জন্মদিন উদযাপন করছেন। পাকিস্তানের পাশাপাশি ভারতেও তাঁর বড় ফ্যান ফলোয়িং রয়েছে এবং গান, অভিনয় ও মঞ্চ পরিবেশনার মাধ্যমে তিনি দুই দেশেই পরিচিতি অর্জন করেছেন।

অলি জাফরের পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও প্রেমের গল্পও বহুদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। তাঁর স্ত্রী Ayesha Fazli-র সঙ্গে সম্পর্কের শুরু, বন্ধুত্ব, প্রেম, পারিবারিক সম্মতি এবং অপহরণের অভিযোগ সংক্রান্ত ঘটনাও এই সম্পর্কের অংশ হিসেবে উঠে এসেছে।

অলি জাফর শুধুমাত্র গান ও অভিনয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন, তিনি চিত্রকলার সঙ্গেও যুক্ত। খুব অল্প বয়স থেকেই তিনি ছবি আঁকা শুরু করেছিলেন। জানা যায়, প্রায় আট বছর বয়স থেকেই শিল্পকলার প্রতি তাঁর আগ্রহ স্পষ্ট ছিল।

২০০০ সালে একটি হোটেলের লবিতে ছবি আঁকার সময় অলি জাফরের সঙ্গে আয়েশা ফাজলির প্রথম পরিচয় হয়। প্রথম সাক্ষাতেই অলি আয়েশার প্রতি আকৃষ্ট হন। পরে দু’জনের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয় এবং সেই পরিচয় ধীরে ধীরে বন্ধুত্বে পরিণত হয়।

ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি অনুযায়ী, শিল্পকলার প্রতি আগ্রহ ও মিলিত চিন্তাভাবনা তাঁদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। সময়ের সঙ্গে সেই বন্ধুত্ব গভীর সম্পর্কে পরিণত হয়।

অলি ও আয়েশা দীর্ঘ সময় একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। সেই সময় পাকিস্তানে অলি জাফরের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছিল এবং তাঁর গান তরুণদের মধ্যে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল। তাঁর জনপ্রিয় গান “মেরে মহল্লে মে চাঁদ জো আয়া হ্যায়…” এখনও শ্রোতাদের মধ্যে পরিচিত। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অলি জাফর একাধিকবার বলেছেন, তাঁর জীবনের প্রকৃত “চাঁদ” তাঁর স্ত্রী আয়েশাই।

সম্পর্ক গম্ভীর হওয়ার পর অলি তাঁর পরিবারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। পরে দুই পরিবারের মধ্যে সাক্ষাৎ হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমদিকে আয়েশার পরিবার জানত না যে অলি পাকিস্তানের পরিচিত শিল্পীদের একজন এবং তাঁর বড় ফ্যান ফলোয়িং রয়েছে।

মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৮ সালে এক ডিনার ডেট থেকে ফেরার সময় অলি জাফর ও আয়েশা ফাজলিকে কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তি অপহরণ করেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার পর তাঁদের নিরাপদে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় কখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনার পরও দু’জন একে অপরের পাশে ছিলেন।

দীর্ঘ সম্পর্কের পর ২৮ জুলাই ২০০৯ সালে লাহোরে অলি জাফর ও আয়েশা ফাজলির বিয়ে হয়। তাঁদের বিয়ে পাকিস্তানের পরিচিত সেলিব্রিটি বিবাহগুলির মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

বর্তমানে এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে — ছেলে Azaan Zafar এবং মেয়ে Alyza Zafar। অলি জাফর প্রায়ই সামাজিক মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে ছবি ভাগ করে নেন।

অলি জাফর তাঁর কর্মজীবনে একাধিক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন এবং চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। পাকিস্তানের পাশাপাশি তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পেও কাজ করেছেন। সংগীত, অভিনয় ও চিত্রকলায় তাঁর কাজ তাঁকে দক্ষিণ এশিয়ার পরিচিত শিল্পীদের মধ্যে স্থান করে দিয়েছে।

 

Leave a comment