মেঘালয় থেকে প্যাঙ্গোলিনের আঁশ এনে চোরাকারবারি! জলদাপাড়ায় বনদফতরের জালে ৩ পাচারকারী

আলিপুরদুয়ারে বনদফতরের অভিযানে ১.৭১০ কেজি প্যাঙ্গোলিন আঁশ উদ্ধার। মেঘালয় থেকে সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক পাচারের ছক ভেস্তে দিল জলদাপাড়া বন বিভাগ, গ্রেফতার তিনজন।

উত্তরবঙ্গে বন্যপ্রাণ পাচারচক্রের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য। মেঘালয় থেকে সংগ্রহ করা প্যাঙ্গোলিনের আঁশ এনে গোপনে মজুত করে পাচারের ছক কষছিল চক্রটি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযানে নামে জলদাপাড়া বন বিভাগ। আলিপুরদুয়ারের সোনাপুর–জয়গাঁ রোড থেকে তিনজনকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়।

বনরুইয়ের আঁশে আন্তর্জাতিক পাচারের ছক

প্যাঙ্গোলিন, যাকে অনেকে ‘বনরুই’ বলেন, আঁশযুক্ত দেহ ও মাছের মতো গঠনের জন্য পরিচিত। বিপদ টের পেলেই শরীর গুটিয়ে নেয় এই স্তন্যপায়ী প্রাণী। মূলত পিঁপড়ে খেয়েই জীবনধারণ করে। আন্তর্জাতিক বাজারে এর আঁশের বিপুল চাহিদা থাকায় বহু বছর ধরেই চোরাকারবারিদের নিশানায় এই বিরল প্রাণী।

গোপন সূত্রে অভিযান, ধরা পড়ল তিনজন

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রেঞ্জ অফিসার রাজীব চক্রবর্তীর নেতৃত্বে জলদাপাড়া বন্যপ্রাণী বিভাগের দক্ষিণ রেঞ্জ অভিযান চালায়। রবিবার রাতে আলিপুরদুয়ার-এর সোনাপুর–জয়গাঁ রোড থেকে তিন পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়।

কোন আইনে মামলা?

ধৃতদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) আইন, ১৯৭২ (সংশোধিত ২০২২) অনুযায়ী মামলা রুজু হয়েছে। বনদফতর মোট ১.৭১০ কেজি প্যাঙ্গোলিনের আঁশ বাজেয়াপ্ত করেছে।

মেঘালয় থেকে সংগ্রহ, লক্ষ্য ছিল সীমান্তপথ

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, আঁশগুলি মেঘালয় থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেগুলি ভুটান বা নেপাল সীমান্ত হয়ে আন্তর্জাতিক পাচারের পরিকল্পনা ছিল বলে সন্দেহ। ধৃতদের মধ্যে একজন অসমের এবং দু’জন কোচবিহারের বাসিন্দা।

ধৃতদের পরিচয় ও পরবর্তী পদক্ষেপ

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন শাহজাহান আলি, সুরজিৎ দাস ও মুকুল রহমান। সোমবার তাঁদের আদালতে তোলা হয়েছে। বনদফতর আরও জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে পাচারচক্রের মূল মাথাদের খোঁজে তৎপর।

মেঘালয় থেকে সংগ্রহ করা ১.৭১০ কেজি প্যাঙ্গোলিনের আঁশ নিয়ে আন্তর্জাতিক পাচারের ছক ভেস্তে দিল বনদফতর। জলদাপাড়া বন বিভাগের অভিযানে আলিপুরদুয়ারে গ্রেফতার তিনজন।

Leave a comment