আলু চাষিদের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে শিলাবৃষ্টি! মাঠের ফসল ঘরে তোলা নিয়ে আশঙ্কায় বাঁকুড়ার কৃষকরা

আলু চাষিদের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে শিলাবৃষ্টি! মাঠের ফসল ঘরে তোলা নিয়ে আশঙ্কায় বাঁকুড়ার কৃষকরা
সর্বশেষ আপডেট: 22-02-2025

দক্ষিণবঙ্গে প্রবল বৃষ্টিপাত আর শিলাবৃষ্টিতে বিপাকে কৃষকরা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস মেনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বাঁকুড়া সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির দাপট দেখা যায়। বিশেষ করে শিলাবৃষ্টি কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কারণ এখনও পর্যন্ত অনেক কৃষকই তাঁদের জমির আলু তুলতে পারেননি।

বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস এলাকার চাষি সেখ বদরে আলম বলেন, "বৃষ্টির জলে আলু এমনিতেই নষ্ট হয়ে যায়। এর পর যদি আরও বৃষ্টি হয়, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক হবে।" অন্যদিকে, বাবুরাম পাত্র নামে আরেক কৃষক জানান, "আমাদের এলাকায় এখনও আলু জমিতে পড়ে রয়েছে। রবিবার পর্যন্ত যদি এই আবহাওয়া থাকে, তাহলে আলু চাষিদের মাথায় হাত পড়বে!"

আলুর বাজারদর পড়ে যাওয়ায় চিন্তায় কৃষকরা

এই বছর বাঁকুড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় আলুর চাষ হয়েছে। তবে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বাজারদর। মাঠের আলুর দাম মাত্র ৫ টাকা কেজি, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় নগণ্য। যদিও ‘সুফল বাংলা’ প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু চাষি ১০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করছেন, কিন্তু অধিকাংশকেই নির্ভর করতে হচ্ছে কোল্ড স্টোরেজের ওপর। তবে লাগাতার বৃষ্টিপাত ও শিলাবৃষ্টির কারণে অনেকেই ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না, যা তাঁদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

আবহাওয়ার আরও অবনতি হলে কী হবে?

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে চাষিরা আশঙ্কা করছেন, যদি আবহাওয়া আরও খারাপ হয়, তাহলে মাঠের আলু পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে। শুধু আলুই নয়, অন্যান্য সবজি চাষেও ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

সরকারি সহায়তার দাবি

এই পরিস্থিতিতে চাষিরা সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। কৃষকদের একাংশ চাইছেন, বৃষ্টিজনিত ক্ষতির হিসাব করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। পাশাপাশি, কোল্ড স্টোরেজের ভাড়া কমানো এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে আলু কেনার ব্যবস্থা করা হলে কিছুটা হলেও তাঁদের সমস্যা কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেষ পর্যন্ত মাঠের আলু ঘরে তুলতে পারবেন তো কৃষকরা?

এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। যদি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়, তাহলে কিছুটা হলেও ফসল বাঁচানো সম্ভব হবে। কিন্তু লাগাতার বৃষ্টি এবং শিলাবৃষ্টি চলতে থাকলে বাঁকুড়ার বহু কৃষককে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে, যা তাঁদের জীবিকা ও ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।

সরকারি পদক্ষেপ ও প্রকৃতির সদয়তায় এবার কি মাঠের আলু ঘরে তুলতে পারবেন চাষিরা? উত্তর খুঁজছেন বাঁকুড়ার কৃষকরা।

Leave a comment