ইরান–ইজরায়েল–আমেরিকা সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা চরমে। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতীয় শেয়ার বাজারে। টানা বিক্রির চাপে বড় ধস নামল সূচকে। দু’দিনে বাজার থেকে উধাও প্রায় ৯.৭ লক্ষ কোটি টাকা। একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রেকর্ড নিম্নস্তরে নেমেছে ভারতীয় টাকা।

দু’দিনে বিপুল ক্ষতি
বাজার বিশ্লেষকদের হিসেব বলছে, মাত্র দু’টি ট্রেডিং সেশনে প্রায় ৯.৭ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ উবে গিয়েছে। Bombay Stock Exchange-এ তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন সোমবারের ৪৫৬.১৭ লাখ কোটি টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪৬.৪৭ লাখ কোটি টাকায়। এই ধসেই চাপে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীরা।
সূচকে বড় পতন
বুধবার সেনসেক্স প্রায় ১,৭১০ পয়েন্ট পড়ে ৭৮,৫২৯-এ নেমে এসেছে— যা ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, Nifty 50 প্রায় ৪৭৭ পয়েন্ট হারিয়ে ২৪,৩৮৯-এ পৌঁছেছে। প্রায় সাত মাস পরে প্রথমবার ২৪,৪০০-এর নিচে নেমে গেল নিফটি। বাজারজুড়ে বিক্রির চাপ স্পষ্ট।

টাকার রেকর্ড পতন
শুধু শেয়ার বাজার নয়, মুদ্রাবাজারেও ধাক্কা। বুধবার ভারতীয় টাকা ৬৮ পয়সা কমে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৯২.১৭-এ পৌঁছেছে— যা এখনও পর্যন্ত সর্বনিম্ন স্তর। ডলারের চাহিদা বাড়া ও বিদেশি তহবিলের বহির্গমনের ফলে এই পতন আরও তীব্র হয়েছে।
তেলের দামে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে অপরিশোধিত তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের ৮০ শতাংশের বেশি আমদানি করে। ফলে তেলের দাম বাড়লে আমদানি বিল বৃদ্ধি পায়, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি চাপে পড়ে এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ে। এই কারণেই টাকার ওপর চাপ বাড়ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব
ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে সংঘর্ষ আরও তীব্র হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ঝুঁকি-এড়িয়ে চলার প্রবণতা (risk-off sentiment) বাড়তে পারে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকলে উদীয়মান বাজারে চাপ বাড়ে। ভারতের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্র হতেই ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ার বাজার। দু’দিনে প্রায় ৯.৭ লক্ষ কোটি টাকার বাজারমূল্য মুছে গিয়েছে। সেনসেক্স ও নিফটির বড় পতন, রেকর্ড নিম্নস্তরে ভারতীয় টাকা—সব মিলিয়ে উদ্বেগে বিনিয়োগকারীরা।









