অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা তুলতে গিয়ে অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের এক গৃহবধূ। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স চেক করতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে রয়েছে ৭৪০ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকারও বেশি। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে এলাকাজুড়ে, আর শুরু হয় জোর চর্চা।

ব্যালেন্স দেখে হতবাক গ্রাহক ও সিএসপি কর্মী
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগর এলাকার কচুবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মেহেরুন্নিসা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা তুলতে একটি গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে (CSP) যান। প্রথমে তিনি ২,০০০ টাকা উত্তোলন করেন। এরপর অবশিষ্ট ব্যালেন্স জানতে চাইলে সিস্টেমে প্রায় ৭৪০ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকার বেশি ব্যালেন্স দেখায়। এত বড় অঙ্ক দেখে গ্রাহক যেমন অবাক হন, তেমনই বিস্মিত হয়ে পড়েন সিএসপি কেন্দ্রের কর্মীরাও।
মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য
ঘটনার খবর দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। কীভাবে একটি সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টে এত বিপুল অঙ্কের ব্যালেন্স দেখা গেল, তা জানতে বহু মানুষ সংশ্লিষ্ট সিএসপি কেন্দ্রে ভিড় করেন। তবে ওই অর্থ বাস্তবে জমা হয়েছে কি না, তা নিয়ে তখনই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
প্রযুক্তিগত ত্রুটির সম্ভাবনাই বেশি
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ব্যাঙ্কের সার্ভার বা সফটওয়্যারের সাময়িক ত্রুটির কারণেই এই অস্বাভাবিক ব্যালেন্স দেখা গিয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকের কী করা উচিত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে হঠাৎ অস্বাভাবিক ব্যালেন্স দেখা গেলে সেটিকে নিজের অর্থ বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে—
অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক শাখা বা গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে বিষয়টি জানাতে হবে।
ব্যাঙ্কের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়া ওই অর্থ ব্যবহার বা উত্তোলনের চেষ্টা করা উচিত নয়।
ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্টের লেনদেনের রসিদ ও তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।
ব্যাঙ্কের ব্যাখ্যার অপেক্ষায় সকলেই
ঘটনার পর থেকে এলাকায় কৌতূহল তুঙ্গে। শেষ পর্যন্ত এটি সফটওয়্যারের ত্রুটি, নাকি অন্য কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যার ফল—তা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট গ্রাহক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা।

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা তুলতে গিয়ে ফাঁসিদেওয়ার এক গৃহবধূর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে হঠাৎই ৭৪০ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকার বেশি ব্যালেন্স দেখা যায়। ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ালেও, প্রাথমিকভাবে এটিকে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলেই মনে করা হচ্ছে।











